সরকার গঠনের পর সাংগঠনিক কার্যক্রমে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোকে সক্রিয় করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: বিএনপি মিডিয়া সেল
সরকার গঠনের পর সাংগঠনিক কার্যক্রমে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোকে সক্রিয় করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো, তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক দুর্বলতা চিহ্নিত করা ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দলের কার্যক্রম জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী শনিবার ঢাকা জেলা বিএনপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে তিনি এই তাগিদ দেন।
দলীয় সূত্র বলছে, সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় তারেক রহমান দলের সাংগঠনিক বিষয়ে আগের মতো সময় দিতে পারেননি। তবে এখন তিনি নিয়মিতভাবে দলীয় কার্যক্রমে সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সুযোগ অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে অথবা মাসে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। শনিবারের বৈঠকে তিনি সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর সাংগঠনিক অবস্থা, অভ্যন্তরীণ সমস্যা, কমিটি সংক্রান্ত জটিলতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে নেতাদের কাছ থেকে জানতে চান।
দলীয় সূত্র জানায়, সরকার গঠনের পর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর কার্যক্রমে গতি কমে গেছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে। এ অবস্থায় দলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়াতে সরাসরি পদক্ষেপ নিয়েছেন তারেক রহমান।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, থানা ও ওয়ার্ড কমিটিতে যেখানে দুর্বলতা আছে, সেগুলো দ্রুত সমাধানের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
রবিন বলেন, “দলকে সচল করার জন্য যেখানে দুর্বলতা আছে, সেগুলো খুঁজে বের করে সমাধান করতে বলেছেন তিনি। থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কাউন্সিলের মাধ্যমে করার বিষয়ে মনোযোগী হতে বলেছেন।”
একই দিন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে সংগঠনের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সূত্র জানায়, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সক্রিয় করার লক্ষ্যে বর্তমান কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। শিগগির স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে।
এ ছাড়া ঢাকা জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নেতাদের আরও সক্রিয় হওয়ার, নিয়মিত বৈঠক করার ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর নির্দেশনা দেন। ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক বলেন, সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানোর জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান। ঢাকা জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়েছিল ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর।
দলীয় সূত্র বলছে, মেয়াদোত্তীর্ণ গুরুত্বপূর্ণ এই জেলা কমিটির কার্যক্রমও এখন তেমন চলছে না।
দলীয় নেতারা বলছেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা সরকারে দায়িত্ব নিয়েছেন। আবার অনেককে দলীয় পদ থেকে সরানো হয়েছে। এতে সাংগঠনিক কাঠামোয় একধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও তৃণমূলের মধ্যে সমন্বয় দুর্বল হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের গতি কমেছে।
বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার কথা। এসব কাউন্সিলের মাধ্যমে বিভিন্ন কমিটি নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়, যেগুলোর মেয়াদ থাকে তিন বছর। তবে দলীয় নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গত ১৭ বছর রাজনৈতিক, আইনি ও সাংগঠনিক নানা সীমাবদ্ধতার কারণে কাউন্সিল করা যায়নি। দলীয় সূত্রের দাবি, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর ১১টির মধ্যে ৯টিরই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এসব সংগঠনের অনেকগুলোর নিয়মিত অভ্যন্তরীণ বৈঠকও হচ্ছে না। ফলে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যেও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে একধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
দলীয় সূত্র বলছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিভিন্ন ইউনিটে অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং জাতীয় কাউন্সিলÑ এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বৈঠক শুরু করেছেন। আগামী দিনে বিএনপির আরও কয়েকটি ইউনিট ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এসব বৈঠকে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি, তৃণমূলের দুর্বলতা, সাংগঠনিক সমন্বয় এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।