প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৩ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
সম্প্রতি মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের জারি করা একটি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এখন থেকে সরকারি অনুষ্ঠানের কোনো ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করা যাবে না। এই সিদ্ধান্তের অর্থ শুধু একটি ছবি সরিয়ে দেওয়া, নাকি এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক দর্শন?
বিষয়টি নিয়ে একটি সামাজিকমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন সাংবাদিক মুনজুরুল করিম। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শনিবার রাত ৮টার দিকে এ সংক্রান্ত ভিডিটি পোস্ট করেন তিনি।
ভিডিওতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান, প্রকল্প উদ্বোধন, সেমিনার কিংবা সচেতনতামূলক কর্মসূচির ব্যানারে সরকারপ্রধানের ছবি ব্যবহারের ছবি গড়ে উঠেছে। মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের নতুন নির্দেশনায় সেই চর্চা থেকে সরে আসার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ এটি কোনো নির্দৃষ্ট অনুষ্ঠানের জন্য নয়, সরকারি অনুষ্ঠানের দৃশ্যমান উপস্থাপনের ক্ষেত্রে একটি নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
জানা গেছে, সকালে গুলশানের বাসা থেকে বের হয়ে সচিবালয়ে যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী দেখতে পান, সড়কে একটি মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচি উপলক্ষে ব্যানারে তার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। পরে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে গিয়ে মন্ত্রীপরিষদ সচিবকে ডেকে এই নির্দেশনা দেন।
মুনজুরুল করিম বলেন, এই সিদ্ধান্ত বোঝার জন্য একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। রাষ্ট্র এবং সরকার এক জিনিস নয়। সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে আসে আবার চলে যায়। কিন্তু রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান স্থায়ী। অনেক গণতান্ত্রিক দেশে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচয় তুলে ধরতে জাতীয় প্রতীক, সরকারি লোগো বা প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করা হয়, কোনো রাজনৈতিক নেতার ছবি সরকারি অনুষ্ঠানের মূল পরিচয় হয়ে ওঠে না।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, নতুন নির্দেশনাকে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার দিকে একটি পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়। অর্থাৎ সরকারি অনুষ্ঠানকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিকভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা।
এটি কেবল একটি ছবি সরিয়ে নেওয়ার বিষয় নয়, এটি আসলে রাষ্ট্রের পরিচয় কীভাবে তুলে ধরা হবে- সেই দর্শনের পরিবর্তন।
মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় শুধু প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়নি, একইসঙ্গে প্রচারসামগ্রী তৈরির ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানের বিষয়, উদ্দেশ্য ও বার্তাকে প্রাধান্য দিয়ে সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।