প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে
শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি-সংক্রান্ত আইনি জটিলতার অবসান হয়েছে। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি-সংক্রান্ত দীর্ঘ ৯ বছরের আইনি জটিলতার অবসান হয়েছে।
এর ফলে সারা দেশে ৩৬ হাজার ২৩৫টি শূন্য প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু হবে। পাশাপাশি এসব পদে শূন্য হওয়া পদসহ মোট ৩৮ হাজার ৪৪৩টি সহকারী শিক্ষক পদে নতুন নিয়োগ কার্যক্রমও দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রায়ের বিস্তারিত এবং সরকারের পরবর্তী পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হবে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদটি দশম গ্রেডভুক্ত হওয়ায় এ পদে পদোন্নতির প্রস্তাব পিএসসিতে পাঠাতে হয়।
তিনি বলেন, আপিল বিভাগ ‘সিভিল আপিল নং-৭৩/২০২৩’ মামলায় সরকারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এর মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটবে এবং শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি কার্যক্রমে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হবে।
মন্ত্রী জানান, ২০১৭ সালে ৩৮৩ জন শিক্ষক ২০১৩ সালের নিয়োগবিধির জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ-সংক্রান্ত বিধি ৯(১)-কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। হাইকোর্ট ওই বিধানকে বেআইনি ঘোষণা করলে সরকার আপিল করে। পরে আপিল বিভাগ ‘স্ট্যাটাস কো’ আদেশ দেওয়ায় সারা দেশে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দীর্ঘ ৯ বছর পদোন্নতি বন্ধ থাকায় দেশের ৬৫ হাজার ৫০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য হয়ে পড়ে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং প্রায় ৬০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর পাঠদান ব্যাহত হয়।
বর্তমান বিধি অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ এবং অবশিষ্ট ৮০ শতাংশ সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয়।
মামলাজনিত কারণে দীর্ঘদিন এই ৮০ শতাংশ কোটায় পদোন্নতি বন্ধ থাকায় মাঠপর্যায়ে ৩৬ হাজারের বেশি পদ শূন্য হয়ে পড়ে।
সরকারের আশা, আপিল বিভাগের এ রায়ের ফলে এসব পদ দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হবে।