কার্জন হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত
প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত দেশের অন্যতম শীর্ষ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পা দিতে যাচ্ছে ১০৬ বছরে। আজ বুধবার ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিপাদ্য নিয়ে উদযাপিত হবে ১০৬তম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। দিবসটি ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গতকাল মঙ্গলবার উপাচার্যের সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভায় দিবসটির সার্বিক আয়োজন পর্যালোচনা করা হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং বিভিন্ন উপকমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে এক শুভেচ্ছা বার্তায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণার আধুনিকায়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। দিবসটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় বিভিন্ন হল ও হোস্টেল থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শোভাযাত্রা নিয়ে স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে সমবেত হবেন। পরে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে উপাচার্যের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে বের হবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।
সকাল ১০টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন হলের পতাকা উত্তোলন এবং কেক কাটার মধ্য দিয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। এ সময় জাতীয় সংগীত, বিশ্ববিদ্যালয়ের থিম সং, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিশেষ সংগীত পরিবেশিত হবে।
এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় টিএসসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এএফ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। সভায় সভাপতিত্ব করবেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম।
দিবসটি উপলক্ষে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে সব একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষাগুলো যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে বেলা ৩টায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে প্যানেল আলোচনা। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম। আলোচনায় অংশ নেবেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এবং উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ।
নিরাপত্তার স্বার্থে আজ দুপুর আড়াইটা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যানবাহন প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত যানবাহন, অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক, রোগীবাহী যান, সাংবাদিক, রাইড শেয়ার, খাবার ও অনলাইন ডেলিভারি এবং জরুরি সরকারি সেবার যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না। তবে পলাশী থেকে দোয়েল চত্বর হয়ে হাইকোর্ট মোড় পর্যন্ত সড়ক উন্মুক্ত থাকবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক-বাহক। উচ্চশিক্ষার বিস্তার, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও উদ্ভাবনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অনন্য। ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের অবদান তিনি স্মরণ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষা ও গবেষণায় আধুনিকায়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বাণীতে তারেক রহমান বলেন, দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাক্রম প্রণয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল এন্টারপ্রেনারশিপ, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোটেকনোলজি ও ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো বিষয় শিক্ষাক্রমে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণার সংস্কৃতি শক্তিশালী করা, নৈতিক শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।