কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
রেলওয়ের ঠিকাদারিতে নিয়ম ভেঙে একতরফা কাজ পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে সিকদার কনস্ট্রাকশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
প্রতিষ্ঠানটির মালিক আনিসুর রহমান টিপু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রেলওয়ের ঢাকা অঞ্চলের সব ঠিকাদারি কাজে প্রভাব বিস্তার করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই ঠিকাদারের পেছনে রেলের আরও কিছু কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
প্রতিদিনের বাংলাদেশ বেশকিছু তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে, যা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত হওয়া ১৬টি টেন্ডারের মধ্যে ৮টিই পেয়েছে সিকদার কনস্ট্রাকশন। এসব কাজ বিতরণের ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানটিকে পূর্ব অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী তানভীর হোসেনের পক্ষ থেকে বিশেষ 'ফেভার' করা হচ্ছে। জানা যায়, এসব কাজে রেলওয়ের পিপিআরসহ (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস) সব সরকারি নিয়মকানুন লঙ্ঘন করে সিকদার কনস্ট্রাকশনকে এসব কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্রয়ের জন্য সরকার প্রণীত আইনি কাঠামো ও নীতিমালা ভঙ্গ করার ফলে কাজ বিতরণে সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। নিয়ম ভেঙে ইজারা নোটিস ছাড়া বেশ কিছু পাবলিক টয়লেট ও একাধিক পার্কিং বরাদ্দ পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ বিভাগীয় প্রকৌশলী-১-এর আওতাধীন এলাকায় কোনো ধরনের উন্মুক্ত ইজারা বা দরপত্র বিজ্ঞপ্তি না
দিয়ে সরাসরি সিকদার কনস্ট্রাকশনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, শায়েস্তাগঞ্জ, ভৈরব বাজার নরসিংদী ও জয়দেবপুর স্টেশনের পাবলিক টয়লেট ও পার্কিং লট ইজারা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জয়দেবপুর ও ঢাকা অঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পার্কিং এরিয়া কোনো রকম টেন্ডার ছাড়াই সরাসরি সিকদার কনস্ট্রাকশনকে দেওয়া হয়েছে। রেলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, টিপুর রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সংশ্লিষ্টরা আনিসুর রহমান টিপুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিয়েছে।
নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে কার্যাদেশ পাওয়া, শাহজাহানপুর আইসিডি পেভমেন্ট আরসিসি রোড, শাহজাহানপুর কোয়ার্টার মেরামত, অফিসার্স রেস্ট হাউস, কার্পেটিং ও অ্যাপ্রোচ রোড গেট মেরামতসহ বেশ কিছু কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ আছে, এসব কাজের বিতরণ প্রক্রিয়া যথাযথভাবে মেইনটেইন করা হয়নি।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে সিকদার কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী আনিসুর রহমান টিপু প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ সঠিক নয়। আমি নিয়মের মধ্যে থেকে সব টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছি। আমার ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষ প্রতিহিংসাবশত আমার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নাম ছড়াচ্ছে।
এসব বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের (চট্টগ্রাম) প্রধান প্রকৌশলী তানভীর হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, এসব সত্য নয়।”