× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ফিরে এসেছে গণঅভ্যুত্থানের সেই দিন

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে

জুলাই গণঅভ্যুত্থান। ফাইল ছবি

জুলাই গণঅভ্যুত্থান। ফাইল ছবি

আজ ১ জুলাই। ২০২৪ সালের এই দিনেই সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক আন্দোলন কর্মসূচির সূচনা হয়। পরবর্তী সময়ে সেই আন্দোলন ৩৬ দিনের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটে। আবার ফিরে এসেছে সেই জুলাই। এ উপলক্ষে গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপালনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন মাসব্যাপী নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক প্লাটফর্ম জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ শিরোনামে ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পদযাত্রা, গণসংযোগ, শহীদদের স্মরণ, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে কবর জিয়ারতের মাধ্যমে আজ কর্মসূচির সূচনা হবে। ৫ আগস্ট ‘বিজয়ের উল্লাস’ কর্মসূচির মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটবে। একই দিন ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্রসংগঠনগুলোর সংহতি সভা এবং উপজেলা পর্যায়ে ‘বিচার ও গণভোট বাস্তবায়নে’ মাসব্যাপী পদযাত্রার রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে।

এনসিপির কর্মসূচি অনুযায়ী, ২ থেকে ৮ জুলাই দেশব্যাপী গ্রাফিতি, দেয়াললিখন ও ব্যানার-ফেস্টুনের মাধ্যমে ‘জুলাই জাগরণ’ পালন করা হবে। ৫ থেকে ৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ‘জুলাই স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট। এ ছাড়া মাসজুড়ে নারী, কৃষক, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, শ্রমিক, উদ্যোক্তা, শিক্ষক ও গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও যুব কনভেনশনের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘দেশপ্রেমের ইউনিফর্ম, ‘সংবাদে গণঅভ্যুত্থান’, ‘জুলাইয়ের দ্রোহযাত্রা’, গণঅভ্যুত্থান স্মরণিকা প্রকাশ, ‘জনতার এক দফা’, আহত ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ৫ আগস্ট ‘বিজয়ের উল্লাস’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলও জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা, ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ, বিভিন্ন অংশীজনের অবদানের স্বীকৃতি এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য জোরদারের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

প্রথম ধাপে ১ জুলাই প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘আলোয় আলোয় স্মৃতি সমুজ্জ্বল’ শীর্ষক কর্মসূচিতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও মোমবাতি প্রজ্বালনের আয়োজন করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে জাতীয় সংসদের হুইপ ও বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ রকিবুল ইসলাম বকুলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর ৩৬ দিনের কর্মসূচি শুরু হবে ২ জুলাই থেকে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জুলাই শহীদ, আহত ও পঙ্গু পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময়, স্মৃতিচারণ, আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠান। ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভা, ১৮ থেকে ৩১ জুলাই দেশব্যাপী স্মরণমূলক কর্মসূচি, ১ আগস্ট গণমিছিল এবং ২ থেকে ৪ আগস্ট শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হবে। ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ১১-দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে রাজধানীসহ সারা দেশে সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি জামায়াতের মহিলা বিভাগ, ছাত্রসংগঠন ও জুলাই যোদ্ধাদের বিভিন্ন ফোরামও পৃথক কর্মসূচি পালন করবে। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যও জুলাই স্মরণে ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, যা ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়ার কথা।

কোটা আন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থান

২০২৪ সালের ৫ জুন ২০১৮ সালের কোটা বাতিল সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপনকে হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করলে সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা পুনর্বহালের পরিস্থিতি তৈরি হয়। শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এ সিদ্ধান্তকে মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপন্থী হিসেবে দেখেন এবং প্রতিবাদ শুরু করেন। ৩০ জুন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে আন্দোলন গতি পায়। ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করলে আন্দোলন দ্রুত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে।

৭ জুলাই ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদ নিহত হন। একই দিনে চট্টগ্রামে ওয়াসিম আকরাম নিহত হওয়ার ঘটনাও আলোচনায় আসে। এরপর আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয় এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে যুক্ত হন। ১৮ জুলাই ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ২৬ জুলাই আন্দোলনের তিন সমন্বয়ককে আটক করা হয়। ৩১ জুলাই ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি পালিত হয়।

১ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ককে ডিবি হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। একই দিন জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ৩ আগস্ট আন্দোলনের নেতারা এক দফা দাবি ঘোষণা করেন। পরে ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ৬ আগস্টের পরিবর্তে ৫ আগস্ট এগিয়ে আনা হয়। ৫ আগস্ট রাজধানীতে সংঘর্ষের মধ্যেই লাখো মানুষের অংশগ্রহণে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান শেখ হাসিনার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদ বিলুপ্ত করেন এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টাসহ ১৪ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ শপথ গ্রহণ করে।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা