চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে
আসলাম চৌধুরী। ফাইল ছবি
প্রার্থিতা বাতিলের খবরে এলাকাবাসী এবং নেতা-কর্মীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরী।
নিজের ফেসবুক ভ্যারিফায়েড পেজে মঙ্গলবার এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানিয়েছেন।
পোস্টে তিনি একটি সংবাদমাধ্যমের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড যুক্ত করেছেন। কার্ডে এ্যাটর্নি জেনারেলের বরাতে বলা হয়েছে, পুনঃনির্বাচন হলে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতায় বাধা নেই।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ মঙ্গলবার সকালে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করে রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতার বিরুদ্ধে করা আপিলের ওপর ১৫ জুন শুনানি শেষে আপিল বিভাগ আজ রায়ের জন্য তারিখ ধার্য করেছিলেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম–৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে অংশ নিলেও তার ফলাফল আদালতের আদেশে স্থগিত ছিল।
আদালত সূত্র জানায়, আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রেখে দেওয়া হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপির অভিযোগ এনে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ ওই লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। আদেশে বলা হয়, যদি তিনি (আসলাম চৌধুরী) নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে সফল হন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ (যতটুকু প্রার্থী হিসেবে তার জন্য প্রযোজ্য) এ–সংক্রান্ত আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।
লিভ টু আপিল মঞ্জুর হওয়ার পর আনোয়ার সিদ্দিকী গত ৩১ মার্চ পৃথক আপিল করেন। ২৮ এপ্রিল আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত আপিলটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে নির্ধারণ করেন।
অন্যদিকে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহালের হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ব্যাংক এশিয়া পিএলসি একটি লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে। যমুনা ব্যাংক পিএলসিও হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে একটি আবেদন করে। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি হয়।
আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা নিয়ে আপিল শুনানিতে ১০ জুন আপিল বিভাগ অ্যামিকাস কিউরি (আইনি সহায়তাকারী) হিসেবে মতামত দিতে জ্যেষ্ঠ দুই আইনজীবীর নাম ঘোষণা করেন। অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কামরুল হক সিদ্দিকী ও প্রবীর নিয়োগী শুনানিতে অংশ নেন।
আসলাম চৌধুরীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী রোকন উদ্দিন মো. ফারুক। এ ছাড়া ব্যাংক এশিয়ার পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামাল উল আলম এবং যমুনা ব্যাংকের পক্ষে আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির শুনানি করেন।
জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানি করেন, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন ও যায়েদ বিন আমজাদ।
মঙ্গলবার রায়ের পর আনোয়ার সিদ্দিকীর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, “আপিল মঞ্জুর করেছেন, তার মানে উনি (আসলাম) অযোগ্য হয়ে গেছেন। আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। তার ক্ষেত্রে ফলাফল প্রকাশ হবে না।”