প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের লোগো। গ্রাফিক্স: ক্যাবের ওয়বসাইট থেকে
স্বল্প আয়ের মানুষের ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতি কমাতে কম দামের ছোট প্যাকেটে ভোজ্যতেল বাজারজাতের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, বর্তমানে দেশের একটি বড় অংশ এখনও খোলা ভোজ্যতেল ব্যবহার করে। এতে ভিটামিন ‘এ’-এর কার্যকারিতা কমে যায় এবং তেল সহজেই ধুলাবালি ও অন্যান্য দূষকের সংস্পর্শে আসে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
ঢাকার সেগুনবাগিচায় রবিবার সকালে কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কার্যালয়ে ক্যাব ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলা হয়।
একইদিন প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানিয়েছে ক্যাব।
ক্যাবের সভাপতি এএইচএম সফিকুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের পরামর্শক মুশতাক আহমেদ মুহাম্মদ ইফতিখার।
বক্তারা বলেন, ছোট প্যাকেটের ভোজ্যতেল চালু হলে স্বল্প আয়ের মানুষ কম টাকায় নিরাপদ ও ভিটামিনসমৃদ্ধ তেল কিনতে পারবেন।
একই সঙ্গে ছোট প্যাকেটের তেল দ্রুত ব্যবহার করা সম্ভব হওয়ায় ভিটামিন নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও কম থাকবে, বলেন তারা।
তবে ছোট প্যাকেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্যাকেট লিকেজ এবং ভোক্তাদের সচেতনতার মতো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন বিশেষজ্ঞরা।
এসব সমস্যা মোকাবিলায় উন্নত মানের প্যাকেজিং ব্যবহার, ‘রিটার্ন অ্যান্ড সেল’ বা ‘ক্যাশ-ব্যাক’ ব্যবস্থা চালু এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির পরামর্শ দেওয়া হয়।
সভায় অতিথিরা বলেন, নীতিনির্ধারক, ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, প্যাকেজিং শিল্প, ভোক্তা অধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগে স্বল্পমূল্যের নিরাপদ প্যাকেজিং চালু করা গেলে ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
ক্যাবের সহ-সভাপতি নাজের হোসেন দাবি করেন, খোলা তেল বিক্রির বিরুদ্ধে সরকারের যে নিষেধাজ্ঞামূলক আইন রয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার সেটির বাস্তবায়ন কার্যত ধামাচাপা দিয়ে রেখেছিল।
তিনি আইনটির যথাযথ বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, সুস্থ শরীরের জন্য খোলা তেল অবশ্যই পরিহার করতে হবে। পাশাপাশি তেল খাওয়ার পরিমাণও কমাতে হবে।
কারণ স্বাস্থ্যকর তেল অতিরিক্ত খেলেও শরীরে চর্বি জমাসহ নানা ধরনের রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কে এম ইকবাল হোসেন বলেন, বিদেশে প্লাস্টিক খাতে বহু বাংলাদেশি কাজ করলেও দেশে এ শিল্পের যথাযথ বিকাশের সুযোগ নেই।
বরং পরিবেশের অজুহাতে এ খাত দিন দিন সংকুচিত করা হচ্ছে। অথচ জাপানসহ উন্নত বিশ্বের বহু দেশে প্লাস্টিকের ব্যবহার বাড়ছে, দাবি করেন তিনি।
ইকবাল হোসেন বলেন, ছোট প্যাকেটের ভোজ্যতেলের জন্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য (রিসাইক্লিং উপযোগী) প্লাস্টিকের ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে তা ইতিবাচক উদ্যোগ হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, ভোক্তার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
এ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ভোক্তার অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ক্যাবের সভাপতি এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে খোলা তেল পরিহার করে বোতলজাত স্বাস্থ্যকর তেলের ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে সরকারের কঠোর নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে তার কার্যকর বাস্তবায়ন নেই।
তিনি বলেন, স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীকেও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করতে ক্যাব ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথভাবে এ উদ্যোগ নিয়েছে।
ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের উদ্বুদ্ধ করা হবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মাসুম আরেফিন, বিএসটিআইয়ের সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী শশীকান্ত দাস, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. রাশিদা পারভীন, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মো. নাজমুস সাকিব, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (গেইন)-এর প্রতিনিধি লাইলুন নাহার এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিওর প্রতিনিধিরা।