ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
শিশুদের রোগ প্রতিরোধে মায়ের শাল দুধের চেয়ে বড় ভিটামিন নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
তিনি বলেন, “শিশুদের ভিটামিন এ খাওয়ালেই হবে না মায়ের দুধও শিশুদের খাওয়াতে হবে। জন্ম পর পর শিশুকে মায়ের শাল দুধ খাওয়াতে হবে। শাল দুধের চেয়ে বড় ভিটামিন আর কিছু হতে পারে না”।
ঢাকার শাহবাগে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রবিবার সকালে এ সব কথা বলেন তিনি।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। সেইসঙ্গে হামসহ নানা রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন”।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “ইউনিসেফের মাধ্যমে আমরা লাল ও নীল রঙের ২ কোটি ৬০ লাখ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সংগ্রহ করেছি । এই ক্যাম্পেইনের জন্য ২ কোটি ৫৫ লাখ ক্যাপসুল সারাদেশে পাঠানো হয়েছে। ২ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে”।
টিকার মান নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “টিকার মান ভালো। ইউরোপে একটি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে এসেছি, সেখানে টিকার মান নিয়ে কথা হয়েছে ইউনিসেফের সঙ্গে। উন্নত মানের টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে আমরা দেশে টিকা এনেছি”।
এদিন সারাদেশে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “সারা দেশে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। প্রথম দিন কোনো শিশু বাদ পড়লে পরে তাদের ভিটামিন এ খাওয়ানোর সুযোগ থাকবে”।

টিকা কেন্দ্র ছাড়াও শিশুদের টিকা খাওয়ানোর জন্য লঞ্চ ঘাট, বাস টার্মিনালসহ আরও ৫০০টি ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র রয়েছে। দুর্গম অঞ্চলের শিশুদের সোমবার থেকে চারদিন টিকা খাওয়ানো হবে।
শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে ১৯৭৩ সাল থেকে দেশে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়। তখন কর্মসূচিটি ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ সাল থেকে কার্যক্রমটিকে আরো শক্তিশালী করার জন্য জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে ভিটামিন ‘এ’-কে যুক্ত করা হয়।
এরপর ২০০৩ সাল থেকে এটিকে আলাদা কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করা হয়, যার নাম দেওয়া হয় জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন।
এ কর্মসূচিটি জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হত। ২০১১ সাল থেকে গত বছরের মার্চ পর্যন্ত এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা বা এনএনএস অপারেশন প্লানের অধীনে পরিচালিত হয়। অপারেশন প্লান বিলুপ্ত হওয়ায় এটি ফের জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম হিসেবে চলছে।
এ সময় স্বাস্থ্য সচিব মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনূস আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।