× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী

দীপক দেব

প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. আমেনা মহসিন ও একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ওবায়দুল হক। কেলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. আমেনা মহসিন ও একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ওবায়দুল হক। কেলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

নতুন সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর ‘অভূতপূর্ব সাফল্য’ পেয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ, কূটনীতিক ও রাজনীতিকদের অনেকেই। তাদের বিবেচনায়, এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ তার কূটনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে একটি পরিষ্কার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে বলেও মনে করছেন তারা। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার চালু, বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত অর্থনৈতিক করিডোর এবং চীনের সঙ্গে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষায় ‘টু প্লাস টু’ সমঝোতার মতো ইস্যুগুলো পর্যালোচনা সাপেক্ষে তারা মনে করছেন, এই সফরে বাংলাদেশের সফলতার পাল্লা ভারী হয়ে উঠেছে। 

ভারত ও চীনের আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার বিষয়টি মাথায় রেখে ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় মালয়েশিয়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের কৌশলগত সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী। এর পরেই চীন সফরে গেছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে সরকারের কূটনৈতিক অবস্থানটি সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা। এর ফলে বাংলাদেশ আগে যে অনেকটা একমুখী কূটনৈতিক অবস্থানে ছিল, তা থেকে স্পষ্টতই সরে এসেছে। চীন সফরে গুরুত্বপূর্ণ নানা ইস্যুতে সমঝোতা স্বাক্ষর ও বাংলাদেশ-মিয়ারমার-চীন অথনৈতিক করিডেরের প্রস্তাব থেকেও পরিষ্কার, আঞ্চলিকভাবে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২১ জুন থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত মালয়েশিয়া এবং চীন সফরে করেন। এই সফরকালে চীনের সঙ্গে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ ছাড়া দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির ভিত্তি তৈরি হয়েছে। দুই নেতার বৈঠকের পর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ দফার যৌথ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে। তার এই সফরকে ‘অভূতপূর্ব সাফল্য’ হিসেবে উল্লেখ করে আনা একটি ধন্যবাদ প্রস্তাব গতকাল শনিবার বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়েছে। 

চীন সফরের যৌথ ঘোষণা অনুযায়ী, দেশটি তার সক্ষমতা অনুযায়ী তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) সহায়তা করবে। পাশাপাশি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা দ্রুত শেষ করতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের কাজ এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত একটি অর্থনৈতিক করিডোর করার প্রস্তাবও দিয়েছে বেইজিং। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন এবং মোংলাবন্দরকে আপগ্রেড, আরও বেশি প্রোগ্রেসিভ ও সার্ভিস ওরিয়েন্টেড করার জন্যও চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বৈঠকের পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। 

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক করিডোরের প্রস্তাব আসার বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফলতা’ হিসেবে দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. আমেনা মহসিন ও একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ওবায়দুল হক।

অর্থনৈতিক করিডোর ও তিস্তা প্রকল্প নিয়ে চীনের অবস্থান ও দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত এমওইউগুলোর উল্লেখ করে ড. আমেনা মহসিন গতকাল শনিবার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা যে ভূ-রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছি চীনের সঙ্গে আমাদের সমঝোতা ও তাদের পক্ষ থেকে আসা প্রস্তাবগুলো থেকেই তা অনেকটা প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশ মালটিল্যাটারিজমের বলছে, বাংলাদেশ ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বলছে সেই জায়গাগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, বিভিন্ন সময় ভারতের দিক থেকে বিভিন্ন ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য আসছে। পুশইন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকেও যে ধরনের বক্তব্য আসছে, এগুলো তো খুবই আপত্তিজনক, তাই না? এখন এই সফরের সফলতার পর ভারত সরকারও বুঝতে পারবে, আমাদের একটা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান আছে। মালয়েশিয়া এবং চায়না আমাদের সাথে যা বলেছে এবং যে লেভেলে কো-অপারেশন হয়েছে, সেগুলোর মাধ্যমে আমাদের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।’ 

অর্থনৈতিক করিডোরের প্রস্তাবকে এই সফরের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে অবহিত করেছেন সহযোগী অধ্যাপক ওবায়দুল হক। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘চীনের দিক থেকে ইকোনমিক করিডোরের যে প্রস্তাব এসেছে, এর তাৎপর্য অনেক; এটার প্রভাবও অনেক বেশি হবে। কিন্তু এই যে ইকোনমিক করিডোর, এই প্রস্তাবটা, এই আলোচনাটা হয়তো অন্য যে সমস্ত এমওইউ সাইন হয়েছে এবং ট্রিটি সাইন হয়েছে, সেসব নিয়ে আলোচনার ডামাডোলে অনেকটা হারিয়ে যাবে।’ 

ওবায়দুল হক বলেন, ‘কানেকটিভিটি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে গত পাঁচ-ছয় বছর হলো আমরা যারা কাজ করছি তারা এটা বারবার আলোচনা করেছি যে, চায়না-মিয়ানমার ইকোনমিক করিডোর যেটা আছে, সেটাকে বাংলাদেশেও এক্সটেন্ড করা যায় কি না। শেষ পর্যন্ত চীন এটার তাৎপর্য বুঝতে পেরেছে, এটার মধ্যে সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছে। আমি মনে করি, এটা খুব বিশাল একটা অর্জন বাংলাদেশের জন্য।’

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে খুবই সফল সফর মনে করার দুটি কারণ তুলে ধরে ওবায়দুল হক বলেন, ‘প্রথমত, তারেক রহমানের ফরেন পলিসির ডিরেকশন কী হবে সে সম্পর্কে এ সফর থেকে একটা ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, এই যে ইকোনমিক করিডোরের প্রস্তাবনা, সেটা চীনের দিক থেকে আসা। এ ছাড়া চীন আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছে। তারা বলেছে, বাংলাদেশের পাশে সব সময় থাকবে এবং কোনো এক্সটারনাল ইন্টারফেয়ারেন্স (বাহ্যিক হস্তক্ষেপ) থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করবে। এ ছাড়া বিএনপির সঙ্গে চায়না কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) এগ্রিমেন্ট হয়েছে এগুলো খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।’ 

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা