প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৩ ঘণ্টা আগে
ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলভুক্ত সংবাদমাধ্যমগুলোর সাংবাদিকদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ঐতিহ্যবাহী সাংবাদিকতার চেনা দেয়ালগুলো ভেঙে আজ তৈরি হয়েছে এক নতুন ডিজিটাল দিগন্ত। এই পরিবর্তনের যেমন বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি এর ভেতরে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও পেশাগত চ্যালেঞ্জ লুকিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ-উত্তর বাংলাদেশে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের আমলে গণতন্ত্রায়ন ও মিডিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ সকল অঙ্গনের সার্বিক পুনর্গঠন পর্বে এই পরিবর্তনকে আত্মস্থ করা এবং চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার সামর্থ্য অর্জন খুবই জরুরি।
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) উদ্যোগে নবগঠিত ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি)-ভুক্ত সংবাদমাধ্যমগুলোর সাংবাদিকদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শনিবার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘ডিজিটাল সাংবাদিকতা, এআই ও ফ্যাক্ট-চেকিং’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি শহীদুল ইসলাম ও সিনিয়র সাংবাদিক সুলতান মাহমুদ বাদল। সঞ্চালনা করেন পিআইবির সিনিয়র রিসার্চ অফিসার গোলাম মুর্শেদ।
মারুফ কামাল খান বলেন, আজকের তথ্যপ্রযুক্তির দুনিয়ায় সবচেয়ে আলোচিত শব্দবন্ধ হলো ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ (এআই)। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আজ মানুষের লেখার টেবিল থেকে শুরু করে সংবাদ কক্ষের ভেতরের সমীকরণ পর্যন্ত বদলে দিচ্ছে। এআই আমাদের কাজকে সহজ করছে, দ্রুত তথ্য বিশ্লেষণে সাহায্য করছে এবং কনটেন্ট তৈরিতে অভাবনীয় গতি এনে দিচ্ছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এআই একটি শক্তিশালী ‘টুল’ বা হাতিয়ার মাত্র; তা কখনোই মানুষের মেধা, বিবেক, এবং মানবিক মূল্যবোধের বিকল্প হতে পারে না।
সংবাদ কেবল কিছু তথ্যের বিন্যাস নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবাদ হলো সমাজের দর্পণ, সত্যের অনুসন্ধান এবং মানুষের অধিকারের পক্ষে দাঁড়ানোর এক চিরন্তন লড়াই। এআই আপনাকে উপাত্ত এনে দিতে পারে, কিন্তু সেই উপাত্তের পেছনের মানবিক সত্যকে আবিষ্কার করার চোখ কেবল একজন পেশাদার সাংবাদিকেরই থাকে। তাই প্রযুক্তির দাস না হয়ে প্রযুক্তির দক্ষ চালক হতে হবে।
ডিজিটাল সাংবাদিকতার জোয়ারে ‘ভুয়া খবর ও অপতথ্য’ বড় সংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে উল্লেখ করে মারুফ কামাল খান বলেন, ফেক নিউজ এবং অপতথ্য বর্তমানে সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিস্তারের ফলে আজ যে কেউ তথ্য ছড়াতে পারছে, কিন্তু এর ফলে সত্য ও মিথ্যার মধ্যবর্তী রেখাটি ক্রমেই আবছা হয়ে আসছে। একটি ভুল তথ্য বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার মুহূর্তের মধ্যে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। ব্যক্তিজীবন ধ্বংস করতে পারে, এমনকি রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে। এই চরম বাস্তবতায় ‘ফ্যাক্টচেকিং’ বা তথ্য যাচাইকরণ আজ কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং এটি সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান শর্ত ও নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, মানুষের ভরসার জায়গাটি ধরে রাখতে হলে আমাদের প্রতিটি সংবাদ প্রকাশ বা প্রচারের আগে এর সত্যতা সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হতে হবে। আর এ কারণেই এই প্রশিক্ষণে ফ্যাক্টচেকিংকে এত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি) নতুন হলেও দেশের গণমাধ্যম জগতে পরম দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ বলে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, সেই অঙ্গীকার থেকেই আমরা জাতীয় প্রতিষ্ঠান পিআইবির সহায়তায় এ ধরণের অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, এই দুদিনের নিবিড় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমাদের সাংবাদিকরা ডিজিটাল টুলস ব্যবহারে আরও পারদর্শী হবেন, এআই-এর নৈতিক ব্যবহার শিখবেন এবং অপতথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য উপযুক্ত প্রযুক্তিগত অস্ত্রে সজ্জিত হবেন।
প্রশিক্ষণটি আয়োজনের জন্য পিআইবিকে ধন্যবাদ জানিয়ে মারুফ কামাল খান বলেন, এনইসির নেতৃবৃন্দ এবং প্রশিক্ষকবৃন্দের অভিজ্ঞতা তরুণ ও অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের পথ দেখাবে। প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখানে যা শিখবেন, তা কেবল নিজের পেশাগত দক্ষতার উন্নয়ন নয় বরং দেশের গণমাধ্যমের গুণগত মান ও বস্তুনিষ্ঠতা রক্ষায় কাজে লাগাবেন। ক্ষুরধার লেখনী এবং সত্যনিষ্ঠা এই সমাজকে আলোর পথ দেখাবে।