× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস

মাদক নিয়ন্ত্রণই বড় চ্যালেঞ্জ

কবির হোসেন

প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ফাইল ছবি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ফাইল ছবি

দেশে মাদক ভয়াবহ সমস্যা হয়ে উঠেছে। শহর কিংবা গ্রামÑ এমন কোথাও নেই, যেখানে মাদক মিলছে না।

প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নতুন নতুন কৌশলে মাদক কারবারিরা তরুণদের উৎসাহিত করছে মাদক সেবনে। ফলে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের একটা অংশ প্রথমে কৌতূহলবশত মাদক গ্রহণ করলেও দ্রুতই জড়িয়ে পড়ছে নেশার জালে। ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজাসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি মরণঘাতী মাদকদ্রব্যের ফাঁদে পড়ছে তারা। এর ফলে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিও হুমকির মুখে পড়ছে। দফায় দফায় সাঁড়াশি অভিযানেও থামানো যাচ্ছে না মাদকের ব্যবহার ও ব্যবসা। মাদক নিয়ন্ত্রণকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা।

এমন এক প্রেক্ষাপটে প্রতি বছরের মতো এবারও ২৬ জুন বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস’। এ বছর এই দিবসের প্রতিপাদ্য ‘বিশ্বের মাদক সমস্যা: বিদ্যমান সংকট, নতুন চ্যালেঞ্জ এবং উদ্ভাবনী সমাধান’। জাতিসংঘ ঘোষিত এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য, মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মাদকাসক্তি প্রতিরোধ এবং অবৈধ মাদক পাচারের বিরুদ্ধে বিশ্বজনমত গড়ে তোলা।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী

দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাণীতে তিনি বলেন, “একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও সুস্থ জাতি গঠনে মাদকমুক্ত সমাজের বিকল্প নেই। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে তরুণ ও যুবসমাজকে রক্ষা করতে কঠোর আইনগত ও ব্যাপক সামাজিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রসমূহ মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি মাদকের বিস্তার রোধে নোডাল এজেন্সি হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং মাঠ প্রশাসন সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে।”

তিনি বলেন, “মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বর্তমানে শুধু একটি দেশের সমস্যা নয়, এটি বৈশ্বিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী মাদক সমস্যা এখন কেবল জনস্বাস্থ্যের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।”

জনসংখ্যার ৪.৮৮ শতাংশই নেশাগ্রস্ত

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জাতীয় পর্যায়ের একটি গবেষণার ফলাফলে উঠে এসেছে, দেশে বর্তমান ৮২ লাখ মানুষ কোনো-না কোনো ধরনের মাদক ব্যবহার করছেন; যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। নতুন সিনথেটিক ও সেমি-সেনথেটিক মাদকের আবির্ভাব ঘটায় মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারজনিত সমস্যা আরও ঘনীভূত হয়েছে। এ ধরনের নেশাগ্রস্তদের দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, গত বছর ২০২৫ সালে সারা দেশে ৪২ হাজার ৩৪৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অভিযান চালিয়েছে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর। এসব অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছে ২০ হাজার ২৯৪ জন।

মামলাজটে উপকৃত হচ্ছেন আসামিরাই

দেশে মাদক-সংক্রান্ত প্রায় ৮০ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় প্রায় ১৮ হাজার এবং চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের মতো। মামলাজটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে আসামিরাই সুবিধা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এই জট কমাতে মাদক মামলার জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “অপরাধের ধরন বদলেছে। এখন অনলাইনে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে, সেই অর্থ অবৈধ পথে পাচার ও মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করা হচ্ছে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী আইনি কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন দিয়ে কার্যকরভাবে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করা যাচ্ছে না। মাদক কারবারিদের অনেকেরই সশস্ত্র গ্রুপ রয়েছে, অথচ অভিযানে যাওয়া অধিদপ্তরের পরিদর্শকদের কাছে কোনো অস্ত্র নেই।” এ পরিস্থিতিকে তিনি ‘ঢাল-তলোয়ারবিহীন নিধিরাম সর্দারের’ সঙ্গে তুলনা করেন।

মন্ত্রী বলেন, “মাদক শনাক্তকরণে পর্যাপ্ত পরীক্ষাগার নেই। ফলে জব্দ হওয়া মাদকের দ্রুত পরীক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেও সমস্যা হচ্ছে। অন্যদিকে মামলা পরিচালনায় বিদ্যমান আদালতগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।”

মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ

এমন প্রেক্ষাপটে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্মকর্তাদের আধুনিক অস্ত্র, ডগ স্কোয়াড, হাজতখানা ও পরিবহন সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এসব সক্ষমতা বাড়ানোর পর আরও জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানা গেছে। বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারিভাবে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগকে উৎসাহিত করার জন্য সরকার নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রোগীদের চিকিৎসাসেবার মান বৃদ্ধি এবং মানবসেবার মান উন্নয়নে সরকারি আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা আহ্‌ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের সিনিয়র সাইকোলজিস্ট অ্যান্ড এডিকশন প্রফেশনাল রাখী গাঙ্গুলী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “মাদকাসক্তি একটি জটিল মনস্তাত্ত্বিক ও আচরণগত সমস্যা, যেখানে মানুষের মস্তিষ্কের পুরস্কার ব্যবস্থা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন ঘটে। অনেক সময় মানুষ কৌতূহল, বন্ধুদের চাপ, মানসিক চাপ, হতাশা, একাকিত্ব বা জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা থেকে সাময়িক স্বস্তি পাওয়ার জন্য মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে। কিন্তু সেই সাময়িক স্বস্তি ধীরে ধীরে নির্ভরশীলতায় পরিণত হতে পারে।”

তিনি বলেন, “মাদক প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগের বিষয় নয়; এটি একটি সামাজিক দায়িত্ব। পরিবারে ভালো যোগাযোগ, শিশু-কিশোরদের অনুভূতি বোঝা, তাদের সময় দেওয়া এবং মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তরুণদের জন্য খেলাধুলা, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও সৃজনশীল পরিবেশ তৈরি করতে হবে।”

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা