২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাতীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ জাকাত সংগ্রহকারী ডিসি প্রথম স্থান অর্জন করেছেন ফরিদা খানম। ছবি: সংগৃহীত
সরকারি জাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও জনসম্পৃক্ত করার উদ্যোগে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের স্বীকৃতি পেলেন ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ ফরিদা খানম।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাতীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ যাকাত সংগ্রহকারী জেলা প্রশাসক হিসেবে তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেছেন।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যাকাত তহবিল বিভাগ সম্প্রতি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানিয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ফরিদা খানমের নেতৃত্বে দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ জাকাতের অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।
এ অর্জনের জন্য তাকে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অধিকারী জেলা প্রশাসক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকারি জাকাত তহবিলে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল।
যাকাতের সামাজিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব তুলে ধরে সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান, স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয় সভা, ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্তকরণ এবং সাধারণ মানুষকে যাকাত প্রদানে উদ্বুদ্ধ করার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয় বলেও জানায় সূত্রগুলো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানায়, এসব কার্যক্রমের ফলে সরকারি জাকাত তহবিল সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পায় এবং সংগ্রহের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যাকাত তহবিল বিভাগের পরিচালক মো. আব্দুল হামিদ খান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে দেশের বিভিন্ন জেলার জাকাত সংগ্রহের তথ্য পর্যালোচনা করে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন, জাকাত সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রশাসনের সক্রিয় ও পরিকল্পিত ভূমিকা থাকলে এ খাতে আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি ক্রমেই বাড়ছে। তবে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ধর্মীয় অনুশাসনভিত্তিক অর্থনৈতিক সহায়তা ব্যবস্থাও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে সংগৃহীত ও বণ্টিত যাকাত দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক বৈষম্য কমাতে কার্যকর অবদান রাখতে সক্ষম।
এই প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সাফল্যকে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
তাদের মতে, জাকাত তহবিলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে যে সমন্বয় গড়ে তোলা হয়েছিল, তা অন্য জেলাগুলোর জন্যও অনুসরণযোগ্য মডেল হতে পারে।
প্রশাসনিক দক্ষতা, সেবামুখী নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগের কারণে এরই মধ্যে সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশংসা অর্জন করেছেন ফরিদা খানম।
জাতীয় পর্যায়ে জাকাত সংগ্রহে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি তার কর্মজীবনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ফরিদা খানম বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে যাকাত তহবিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যাকাতের অর্থ প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া গেলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “যাকাত কেবল একটি ধর্মীয় অনুশাসন নয়, এটি সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক দায়িত্ববোধেরও প্রতিফলন।
“সরকারি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে জাকাতের অর্থ দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন সম্ভব হবে।”
এ অর্জনকে ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মানুষের কল্যাণে কাজ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও জনসেবামূলক কার্যক্রমে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাব।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সরকারি যাকাত তহবিলের প্রতি মানুষের আস্থা ও অংশগ্রহণ বাড়াতে এ ধরনের স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি দেশের অন্যান্য জেলা প্রশাসনকেও যাকাত সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় আরও সক্রিয় হতে উৎসাহিত করবে।
ফলে জাকাতভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।