× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মাদক মামলার জট কমাতে পৃথক ট্রাইব্যুনালের প্রস্তাব

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ছবি: সংগৃহীত

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ছবি: সংগৃহীত

দেশে প্রায় ৮০ হাজার মাদকসংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন থাকায় বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, মামলার জট কমাতে মাদক মামলার জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়াতে কর্মকর্তাদের আধুনিক অস্ত্র, ডগ স্কোয়াড, হাজতখানা ও পরিবহন সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৃহস্পতিবার ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস–২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। পরে নির্বাচিত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন দিয়ে কার্যকরভাবে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মাদক কারবারিদের অনেকেরই সশস্ত্র বাহিনী বা গ্রুপ রয়েছে, অথচ অভিযানে অংশ নেওয়া অধিদপ্তরের পরিদর্শকদের কাছে কোনো অস্ত্র নেই। এ পরিস্থিতিকে তিনি ‘ঢাল-তলোয়ারবিহীন নিধিরাম সর্দার’-এর সঙ্গে তুলনা করেন।

তিনি বলেন, মাদক শনাক্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগারেরও ঘাটতি রয়েছে। ফলে জব্দ হওয়া মাদকের দ্রুত পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বিলম্ব হচ্ছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মামলার চাপ সামলাতে বিদ্যমান আদালতগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ৮০ হাজার মাদক মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে ঢাকায় প্রায় ১৮ হাজার এবং চট্টগ্রামে প্রায় ৩৯ হাজার মামলা রয়েছে। মামলার জটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে আসামিরা সুবিধা পাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাদক মামলার জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বিদ্যমান এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতগুলোও এসব মামলার বিচার চালিয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারের পর থানায় হস্তান্তরের আগে রাখার জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিজস্ব কোনো হাজতখানা নেই। আইন সংশোধনের মাধ্যমে হাজতখানা নির্মাণ, পরিবহন সুবিধা, ডগ স্কোয়াড গঠন এবং আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এসব সক্ষমতা অর্জনের পর মাদকের বিরুদ্ধে আরও জোরালো অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ-সংক্রান্ত সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, অপরাধের ধরণ বদলে গেছে। এখন অনলাইনে মাদক কেনা-বেচা হচ্ছে, সেই অর্থ অবৈধ পথে পাচার হচ্ছে এবং মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করা হচ্ছে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী আইনি কাঠামো প্রয়োজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক আইন সংস্কারের পাশাপাশি মানি লন্ডারিং, সাইবার অপরাধসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনও আধুনিকায়ন করা হবে। এসব আইনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। 

আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী আইনি ভিত্তির বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আইনগত সংস্কার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা