× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

স্থানীয় সরকার নির্বাচন

রক্তপাতহীন ভোটই বড় চ্যালেঞ্জ

দীপক দেব

প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবন। ফাইল ছবি

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবন। ফাইল ছবি

মাসুদুল হক চৌধুরী (৪৫)। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক। গত ১৩ জুন প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে তাকে।

এ ঘটনার একটি ভিডিও পরে ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। তাতে দেখা যায়, অস্ত্রধারীরা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে চৌমুহনী বাজারে এসে যুবদলের এই নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে। হত্যার পর ফাঁকা গুলি করতে করতে ফের চলে যাচ্ছে অটোরিকশায় উঠে। তাদের তিনজনের হাতে তখন পিস্তল, আর দুইজনের হাতে লম্বা আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে তদন্তের পর এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, ‘যুবদল নেতা মাসুদুল হক রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মধ্য বেতাগী এলাকার বাসিন্দা। ভিকটিম বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের জন্য দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তিনি যাতে নির্বাচন করতে না পারে সেজন্য হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।’ 

এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ আসার পর রক্তপাতহীন ভোট নিয়ে শঙ্কিত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কর্মকর্তারা মনে করছেন, নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার আগেই এমন ঘটনা থেকে স্পষ্ট যে, রক্তপাতহীন নির্বাচন চাইলে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার ওপর ইসিকে ব্যাপক গুরুত্বারোপ করতে হবে। কমিশনের কার্যক্রমও হতে হবে সমন্বিত। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগস্টের শেষে তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে ইসি। নির্দলীয়ভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও এরই মধ্যে সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে একাধিক দল। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষ থেকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম জানানো হয়েছে। এনসিপি শুধু সিটি করপোরেশন নয়, উপজেলা পর্যায়েও দলীয় প্রার্থী চূড়ান্তের কথা জানিয়েছে। এ ছাড়া ১১ দলীয় জোটের অন্য শরিক দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীরাও মাঠে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে সরকারি দল বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা না করলেও দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীরা অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রচারকাজ শুরু করেছেন। তবে অধিকাংশ নির্বাচনী কেন্দ্রেই রয়েছে বিভিন্ন দলের একাধিক প্রার্থীÑ যারা আনুষ্ঠানিকভাবে দলের সমর্থন প্রত্যাশা করছে। এই বিষয়গুলো ইসিকে ভাবনায় ফেলেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন পর্যন্ত এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এমন প্রেক্ষাপটে সিইসি রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে বলেছেন, “আপনারা দরকার হলে নিজেরা নিজেরা বসেন। একটা সমঝোতায় আসেন। আমরা চাই রক্তপাতহীন একটা স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেখতে। অতীতে দেখা গেছে, অনেক মার্ডার হয়। এই ধরনের পরিস্থিতিতে আমি মনে করি যে, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত, নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া করা উচিত। যাতে নির্বাচন শঙ্কামুক্ত হয়।”

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীত অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক দলগুলোর সাম্প্রতিক তৎপরতা থেকে পরিষ্কার যে, নির্দলীয় হলেও স্থানীয় নির্বাচনে দলগুলোর একধরনের প্রভাব থাকবে। দলীয়ভাবে প্রার্থী ঘোষণা করে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল তা ইতোমধ্যে নিশ্চিতও করেছেন। অন্যদিকে কমিশনের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গত সংসদ নির্বাচনের মতো শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় রাখা।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০২১-২২ সালের নির্বাচনে সহিংসতাও বেশি ছিল। ওই নির্বাচনে নিহত হয় ১১৫ জন। এ ছাড়া ২০১৬ সালে ১০৮ জন নিহত হয়। ২০১১ সালে ১০ জন, ২০০৩ সালে ৮৩ জন, ১৯৯৭ সালে ৩১ জন ও ১৯৮৮ সালে ৮০ জন নিহত হয়। এদিকে ২০১৫ সাল থেকে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন শুরু হয়। অবশ্য এর আগের নির্বাচনগুলোতেও ক্ষেত্রবিশেষে বিভিন্ন দল থেকে প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়া হতো। 

অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ জেসমিন টুলি সহিংসতার আশঙ্কা সম্পর্কে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “এটি নির্ভর করছে প্রার্থীদের মানসিকতা, অবস্থান ও আচরণের ওপর। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী নিরপেক্ষ ও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করলে সহিংসতা কমানো সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে বড় ধরনের ভূমিকা নিতে হবে। কারণ সকলের সহযোগিতা না থাকলে ইসির একার পক্ষে শান্তিপূর্ণ ও রক্তপাতহীন নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব না।”

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. আব্দুল আলীম মনে করেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বজায় রাখাই হবে ইসির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। এ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ না হলে নির্বাচন ব্যবস্থা আবারও প্রশ্নের মুখে পড়বে।’ এজন্য সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে রক্তপাত এড়ানো ইসির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি জানিয়েছেন, ‘নির্বাচনে রক্তপাত এড়ানো বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা কয়েক ধাপে নির্বাচন করব। প্রথম ধাপের নির্বাচনে সহিংসতা ও অনিয়ম কিছু হলে পরবর্তী ধাপগুলোতে প্রতিকারমূলক প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা