ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে মঙ্গলবার ‘ক্লাইমেট স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট’-এর উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় কর্মশালায় আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন কৃষি খাতের বিশেষজ্ঞরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দেশে প্রতিদিন গড়ে ৩০৭ একর আবাদি জমি কমে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন কৃষি খাতের বিশেষজ্ঞরা।
পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কৃষিকে আরও সক্ষম ও টেকসই করে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে মঙ্গলবার ‘ক্লাইমেট স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট’-এর উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, দেশের কৃষি এখন খোরপোষভিত্তিক উৎপাদন থেকে ধীরে ধীরে রপ্তানিমুখী খাতে রূপান্তরিত হচ্ছে। এ পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কৃষকদেরও আধুনিক প্রযুক্তি ও স্মার্ট চাষাবাদ পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) মহাপরিচালক আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সেলিম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএইর পরিকল্পনা শাখার পরিচালক মো. আব্দুস সাত্তার এবং হর্টিকালচার শাখার পরিচালক মো. হযরত আলী। প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক খন্দকার মোহাম্মদ রাশেদ ইফতেখার।
অনুষ্ঠানে হযরত আলী বলেন, “জলবায়ু সহনশীল কৃষি উন্নয়নে আরও আধুনিক ও কার্যকর উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন”।
কৃষিকে আবহাওয়াজনিত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে টিকিয়ে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, “প্রতিদিন ৩০৭ একর আবাদি জমি হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তি এবং মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদনে আরও বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন”।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. সেলিম খান বলেন, “স্মার্ট কৃষি বাস্তবায়নে শুধু প্রযুক্তি নয়, চিন্তা-চেতনা ও কর্মপদ্ধতিতেও আধুনিক হতে হবে”।
প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জনে সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে আব্দুর রহিম বলেন, “কৃষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে কৃষি সংশ্লিষ্টদেরও দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর হতে হবে”।
দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
পানি সম্পদ, কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত ‘ক্লাইমেট স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট’ প্রকল্পটি ২০২২ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়। ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলমান এ প্রকল্প দেশের ১৭ জেলার ২৭ উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।