পাট বাংলাদেশের অর্থকরী ফসল এবং ‘সোনালী আঁশ’ হিসেবে পরিচিত। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দেশে পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)।
চার বছর মেয়াদি এ পরিকল্পনার আওতায় পাটবীজ উৎপাদন ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করে ২০২৯-৩০ উৎপাদনবর্ষের মধ্যে বার্ষিক ৫ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পাট বাংলাদেশের অর্থকরী ফসল এবং ‘সোনালী আঁশ’ হিসেবে পরিচিত।
দেশে প্রধানত তিন ধরনের পাটের চাষ হয়ে থাকে। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিবছর প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার মেট্রিক টন পাটবীজের প্রয়োজন হয়।
তবে বর্তমানে বিএডিসি তার বিদ্যমান সক্ষমতার ভিত্তিতে বছরে প্রায় ২ হাজার মেট্রিক টন পাটবীজ উৎপাদন ও সরবরাহ করে।
বাকি প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন পাটবীজ ভারত থেকে আমদানি করে দেশের চাহিদা পূরণ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাটবীজ আমদানিতে প্রতি বছর প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। এ ব্যয় কমানো এবং দেশের চাহিদা দেশের ভেতরেই পূরণের লক্ষ্যে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সেই নির্দেশনার আলোকে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএডিসি একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে বলেও জানিয়েছে সূত্র।
বিএডিসির চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক আলোচনা ও সভার মাধ্যমে সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছেন।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের আরও ১২টি জেলায় নতুন ১২টি পাটবীজ চুক্তিভিত্তিক চাষি জোন স্থাপন করা হবে।
পাশাপাশি ২০২৬-২৭ উৎপাদনবর্ষ থেকে ২০২৯-৩০ উৎপাদনবর্ষ পর্যন্ত ধাপে ধাপে উৎপাদন বৃদ্ধি করা হবে।
কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ সালে ২ হাজার ২১০ মেট্রিক টন, ২০২৭-২৮ সালে ৩ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন, ২০২৮-২৯ সালে ৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন এবং ২০২৯-৩০ সাল থেকে স্থায়ীভাবে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাটবীজ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কার্যক্রম এরই মধ্যে চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অভ্যন্তরে গুণগতমানসম্পন্ন পাটবীজ উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
একই সঙ্গে কৃষকরা স্বল্পমূল্যে উন্নতমানের পাটবীজ পাবে, যা পাট উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিএডিসির এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তা দেশের কৃষি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
পাটবীজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি কৃষকদেরও সরাসরি উপকার হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তারা।