প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৩ ১৯:৫৮ পিএম
আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২৩ ২০:১১ পিএম
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। ফাইল ছবি
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন দেশের আইন অঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
তিনি বলেছেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ছিলেন দেশের আইনাঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার মৃত্যুতে এই অঙ্গন থেকে একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র খসে পড়েছে। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় শূন্যতা তৈরি করবে। তার চলে যাওয়া তাই ভীষণ কষ্টের।’
রবিবার (১ জানুয়ারি) বিকালে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি চত্বরে খন্দকার মাহবুবের জানাজার আগে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘খন্দকার মাহবুব হোসেন বিচারপতিদের প্রতি, আদালতের প্রতি সব সময় সম্মান দেখিয়েছেন। তিনি কখনও আদালতকে প্রেসার দেননি। আদেশ বিপক্ষে গেলেও তিনি হাসতে হাসতে আদালত থেকে বের হয়েছেন। এটা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।’
প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, ‘সম্প্রতি যাবজ্জীবন মানে ৩০ বছর কারাদণ্ড এই রায় আমরা দিয়েছি। এই মামলায় খন্দকার মাহবুব হোসেন আদালতকে শতভাগ সহযোগিতা করেছেন। তিনি সহযোগিতা না করলে এই রায় দেওয়া সহজ হতো না।’
শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন মারা যান। তার ফুসফুসে হঠাৎ পানি আসায় গত ২৬ ডিসেম্বর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে নেওয়া হয়।
১৯৩৮ সালের ২০ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব। তার পৈতৃক বাড়ি বরগুনা জেলার বামনা উপজেলায়। ১৯৬৭ সালের ৩১ জানুয়ারি আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন তিনি। ১৯৭৩ সালে দালাল আইনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত আদালতের প্রধান কৌঁসুলি ছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশের ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত।
২০০৮ সালে বিএনপিতে যোগ দেন খন্দকার মাহবুব হোসেন। ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ছিলেন। ২০১৬ সালে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে ভাইস চেয়ারম্যান পদ পান।
২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন তিনি। ওই আসনে আগেও অন্য দল থেকে একাধিকবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন খন্দকার মাহবুব।