প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ১ ঘণ্টা আগে
খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। ছবি: মামুনুল হকের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে
পাঁচ বছর আগের রিসোর্টকাণ্ড জাতীয় সংসদে আলোচনায় আসার দুই দিন পর এ নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন মামুনুল হক।
তিনি শনিবার সকাল ৯টা ১৪ মিনিটে এ বিষয়ে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘ এক পোস্ট দেন।
পোস্টে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক দাবি করেন, তার ‘চরিত্র হনন’ করাই ছিল তৎকালীন আওয়ামী সরকারের মূল উদ্দেশ্য।
হেফাজত নেতা মামুনুল হক বলেন, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল তিনি ও তার স্ত্রী জান্নাত আরা (ঝর্ণা) নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নং কক্ষে অবস্থান করছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সেদিন পুলিশের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসী, সাংবাদিকরা তাদেরকে নানাভাবে হেনস্থা করে।
তিনি লিখেছেন, “শুরুতেই (এক) পুলিশ কর্মকর্তা আমার হাত থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে এডিশনাল এসপি আসার পর তিনি আমাদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য ফোনে আমার পরিচিতজনদের সাথে কথা বলে আশ্বস্ত হয়ে আমাদেরকে নিরাপদে বাইরে নিয়ে আসতে চান।”
তবে গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইর একাধিক কর্মকর্তা আমাদেরকে থানায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি লিখেছেন, “আমরা তাদের সাথে রুম থেকে বের হয়ে লবিতে নেমে দেখি হুলস্থুল কান্ড। হাজার হাজার প্রতিবাদী মানুষ সেখানে ঢুকে পড়েছে। উপস্থিত পুলিশগুলো প্রাণ ভয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে তাদেরকে রক্ষা করার আবদার জানাতে থাকে।
“আমি পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে আমার মোবাইল ফেরত নিয়ে লাইভে কিছু বক্তব্য দেয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু দেখি প্রযুক্তির সাহায্যে আমার ফেসবুক আইডির লাইভ অপশন বন্ধ করে রাখা হয়েছে ।”
এ সমং তিনি বিক্ষুব্ধ জনতার সামনে গিয়ে তাদেরকে নিবৃত্ত করেন এবং পুলিশদেরকে রক্ষা করেন বলেনও দাবি করেন।
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, নারায়ণগঞ্জের রিসোর্টে গিয়ে ‘কি বাংলাদেশের প্রচলিত কোনো আইন ভঙ্গ’ করেছেন তারা।
তার ভাষায়, “আমি কিংবা জান্নাত আরা (ঝর্না) আমরা কি বাংলাদেশের প্রচলিত কোন আইন ভঙ্গ করেছি? কিংবা আমি অথবা সে আমরা কেউ কি কারো কাছে কোন অভিযোগ দায়ের করেছি?
“ আমরা তো সেখানে স্বেচ্ছায় গিয়েছিলাম। তাহলে পুলিশের নেতৃত্বে জোরপূর্বক আমাদের ঘরে ঢোকা কোন আইনে বৈধ হলো?”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে একের পর এক আমাদের ব্যক্তিগত কল রেকর্ড ফাঁস করা এবং অনেক ক্ষেত্রে তাতে বিকৃতি করার বৈধতা কোন আইনে আছে?”
বিবাহ গোপন রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “উপমহাদেশে একাধিক বিবাহ একটা জটিল বিষয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে যারাই একাধিক বিবাহ করেন, তারা প্রথম পরিবার থেকে একটা সময় পর্যন্ত লুকিয়ে রাখেন।
“কারণ, পরিবার কোনভাবেই তা মানতে চায় না। স্বাভাবিকভাবেই আমার সন্তান ও পরিবারে ওই মুহূর্তে আমি অস্থিরতা তৈরি করতে চাইনি।”
তিনি পোস্টে দাবি করেন, “একাধিক বিবাহের বিষয়টি ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ জানত।”
তিনি লিখেছেন, “রয়েল রিসোর্ট থেকে পুলিশ কর্মকর্তা এএসপি মহোদয় আমার সেই ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মধ্য থেকে একাধিক নির্ভরযোগ্য সুপরিচিত ব্যক্তির সাথে আলাপ করে আশ্বস্ত হয়েছিলেন এবং আমার পক্ষে কিছুটা ভূমিকা পালন করেছিলেন। ফলে তাকে হাসিনা সরকারের চরম নিগ্রহনের শিকার হতে হয়েছে।”
“আর যারা আমার বিবাহের বিষয়ে নিজেদের অবগত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করেছিলেন, তাদের উপর দিয়েও বয়ে গেছে ভয়াবহ ঝড়”, দাবি করেন তিনি।
মামুনুল হক লিখেছেন, “আমি রাষ্ট্রীয় কোনো আইন লঙ্ঘন করিনি, শরীয়তের আইনও লংঘন করিনি।”
অভিযোগ তুলে তিনি লিখেছেন, “ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার রাষ্ট্রযন্ত্র প্রকাশ্যে এই অন্যায়গুলো করল। কোন একজন সুশীলও কি এই ব্যাপারে কোন কথা বলল?
“একটি রাষ্ট্রের এমন নির্লজ্জ ভূমিকায় সরকার বা রাষ্ট্র কিংবা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রশ্ন না করে সবাই আমাকে ঘায়েল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠল!”
এরপর তিনি প্রশ্ন তুলেছেন “এখনো যারা এই নির্মম রাষ্ট্রীয় নির্লজ্জতার সুরে সুর মিলিয়ে কথা বলে হাসিনার নির্লজ্জতাকে বৈধতা দেয়, তাদের নীতি নৈতিকতা কোন লেভেলের?”
তিনি পোস্টে আরও লিখেছেন, “তবে এর বাইরে রাজনৈতিক মতভিন্নতার কারণে কিছু মানুষ আমাকে ঘায়েল করতে গিয়ে কুখ্যাত হাসিনার রাষ্ট্রীয় নির্লজ্জ অশ্লীলতাকে বৈধতা দেয়। তাদেরকে শুধু একটি কথাই স্মরণ করিয়ে দেই, শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়ার চরিত্র হননের জন্য অসভ্যতার কোন সীমা লঙ্ঘন না করে থেকেছে?
“কিন্তু বেগম জিয়া কোনদিন তার এই সকল অসভ্যতার বিন্দুমাত্র জবাব দেওয়ার গরজ অনুভব করেননি। মানুষ আজ শেখ হাসিনার সেই অসভ্যতাকে নয় বরং বেগম জিয়ার নীরবতাকেই সম্মান ও স্যালুট জানায়!”
ব্যাখ্যার শেষাংশে তিনি লিখেছেন, “যে সকল কুলাঙ্গাররা ফ্যাসিস্ট হাসিনার ষড়যন্ত্রমূলক অসভ্যতা নির্লজ্জতা বেহায়াপনা ও রাষ্ট্রীয় মবসন্ত্রাসের পরাজিত ঘৃণ্য প্রজেক্টকে ৫০১ বলে বলে বিকৃত স্বাদ আস্বাদন করে, তাদের প্রতি আমাদের সুস্পষ্ট জবাব হল- ৫০১ আমাদের নয়, বরং ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার নির্লজ্জ দোসরদের পরাজয়ের দলিল।”
তিনি আরও লিখেছেন, “হাসিনার পরাজয়ের কালিমা হিসেবে ৫০১কে আমরা আমাদের বিজয়ের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করলাম।
“আমরা এখন থেকে ৫০১কে সেলিব্রেট করব এবং আল্লাহর খাস রহমত প্রাপ্তির আনন্দ উদযাপন করব ইনশাআল্লাহ।”