ঢাকার গুলশানের বাসার এক গোপন সুড়ঙ্গ থেকে মির্জা আবুল বাশার মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ঢাকার গুলশানের বাসার এক গোপন সুড়ঙ্গ থেকে মির্জা আবুল বাশার মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গুলশান-২-এর ২৮ নম্বর রোডে আবুল বাশারের আলিশান বাসাটি শুক্রবার রাত ১২টার পর চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে পুলিশ।
বাশারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের নাম ভাঙিয়ে কোটি কোটি টাকা প্রতারণাসহ রয়েছে অসংখ্য মামলা।
এ ঘটনায় আজ শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, তাদের কাছে তথ্য ছিল—নজরদারিতে থাকা বাশার এই বাসাতেই লুকিয়ে আছেন। তবে রাত গড়িয়ে সকাল হলেও বাশারের কোনো হদিস পাচ্ছিল না পুলিশ।
পুরো ফ্ল্যাট তল্লাশি করেও যখন বাশারকে পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন বাসার একটি বাথরুমে তল্লাশি চালায় বলেও জানায় পুলিশ।
এ সময় বাথরুমের দেয়ালের পেছনে বিশেষ কায়দায় তৈরি করা একটি গোপন সুড়ঙ্গ দেখতে পায় তারা।
আর সেই অন্ধকার সুড়ঙ্গের ভেতরেই আত্মগোপনে ছিলেন মির্জা বাশার। পরে শনিবার সকালে সেই সুড়ঙ্গ থেকে বাশারকে গ্রেপ্তার করা হয় বলেও জানায় পুলিশ।
গুলশান অঞ্চলের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, বাশারের অবস্থানের তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর শুক্রবার রাতে বাসাটি ঘিরে ফেলা হয়। শনিবার সকালে তল্লাশি চালিয়ে বাথরুমের পেছনের গোপন সুড়ঙ্গ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইসলামাবাদের পশ্চিম আউলিযাপুরের বাসিন্দা এই মির্জা আবুল বাশার ওরফে মামুন।
স্থানীয়দের তথ্য ও অনুসন্ধানে জানা যায়, মির্জা আবুল বাশার পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের অসংখ্য শীর্ষ নেতাকর্মীর সঙ্গে ছিল তার গভীর সম্পর্ক।
অভিযোগ পাওয়া যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে নামসর্বস্ব ‘বিটিএল’ নামক একটি ভুয়া কোম্পানি খুলে দেশব্যাপী জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন বাশার।
আরও অভিযোগ পাওয়া যায়, জায়গা, চাল কিংবা তেলের ডিলারশিপ দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোটি কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হন তিনি।
বাশারের প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে অনেকেই নিজেদের শেষ সম্বলসহ জায়গা-জমি বিক্রি করে এখন পথে বসেছেনছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তার বিরুদ্ধে শুধু গুলশানই নয়, ঢাকার বাড্ডা, খিলক্ষেত, বনানী, ভাটারাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে।
সম্প্রতি কোরবানির ঈদের আগে রংধনু এগ্রোর খামার থেকে একাই ৮টি বড় গরু কেনেন বাশার। খামারিকে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকার একটি চেক দিলেও সেটি ব্যাংকে বাউন্স করে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া মাসিক ভাড়ায় নেওয়া একটি ব্যক্তিগত গাড়ির কয়েক মাসের ভাড়া না দিয়ে গাড়িটি আটকে রাখারও অভিযোগ করেছেন এক ব্যক্তি।
পাওনা অর্থ ও গাড়ির অবস্থান নিয়ে এই জালিয়াতির পরই মূলত আইনি বেড়াজালে আটকা পড়েন বাশার।
এসি শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান আরও জানান, গুলশান থানায় দায়ের করা একটি প্রতারণা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
তবে অনেকের মনে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
কারণ, এর আগে গত বছরের অক্টোবরেও আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। কিন্তু আইনের ফাঁক গলে জামিনে মুক্তি পেয়েই তিনি আবারও দ্বিগুণ উৎসাহে প্রতারণায় সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।