বাসস
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৬ ২১:১৭ পিএম
আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬ ২১:৩৪ পিএম
রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তা সেতু এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ছবি: বাসস
আগামী একনেক সভাতেই বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্পটি পাস হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পটিকে বিশেষ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করেছেন।
রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তা সেতু এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি শুক্রবার এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, তিস্তা নদীকে ঘিরে মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে এবং দেশি-বিদেশি কারিগরি সহযোগিতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ‘তিস্তা মেগা প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকল্পের ব্যয় ও রূপরেখা তুলে ধরে তিনি জানান, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। বিশেষ প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজনীয় অর্থায়নের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই কাজের সার্বিক অগ্রগতি তদারকি করছেন।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “আমরা যদি খুব পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ করি, পরিকল্পিত ড্রেজিং করি তাহলে এই অঞ্চলের মানুষকে ইনশাল্লাহ রক্ষা করতে সক্ষম হবো”।
তিনি বলেন, তিস্তাপারের সকল দিক বিবেচনা করলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা খুবই প্রয়োজন। তিস্তা শুধু আপনাদের (লালমনিরহাট, রংপুর) দুঃখ না, এটা সারা বাংলাদেশের দুঃখ। আমরা যখনই এ কাজগুলো দৃশ্যমান করে সমাপ্ত করতে পারব, হয়ত ২-৪ বছর বা ৬-৭ বছর সময় লাগবে। কিন্তু এর সুফল এ অঞ্চলের মানুষ পাবে, সারা বাংলাদেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। অর্থনীতির ভিত মজবুত হবে। এখানে কৃষি উপকরণ এবং কৃষিভিত্তিক অঞ্চল গড়ে উঠবে, যেটা আপনাদের এ অঞ্চলের পাঁচটা জেলার দুঃখ। তা আনন্দে পরিণত হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ অঞ্চলের মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিস্তার দুঃখ তিনি দূর করবেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ইতোমধ্যে একাধিক কমিটি গঠন করে দিয়েছেন।
মন্ত্রী জানান, প্রকল্পের প্রাথমিক সমীক্ষা ও সমীকরণের কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। ৯ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী দল এই প্রকল্পটির রূপরেখা তৈরিতে কাজ করছেন। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যেই এই মহাপরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন ,‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ অঞ্চলের কৃষিতে বিপ্লব ঘটানোর লক্ষ্যে তিস্তা সেচ প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন। আজ তাঁরই যোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে তিস্তা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা কেবল নদী শাসন বা ভাঙন রোধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং শুষ্ক মৌসুমে কীভাবে নদীটিতে পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখা যায়, সেই স্থায়ী ব্যবস্থাও এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’
মতবিনিময় শেষে মন্ত্রী তিস্তা তীরবর্তী নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজখবর নেন।
এর আগে, তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিস্তা মেগা প্রকল্পের কারিগরি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম-হাতীবান্ধা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান, লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল, রংপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, লালমনিরহাট ও রংপুরের জেলা প্রশাসক এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।