শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ
সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্ত সংস্থা।
ওপর মহলের নির্দেশে সংবাদ করা হয়েছে জানিয়ে দুজনই নিজেদের দায় অস্বীকার করেছেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা সূত্রে বুধবার এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞের মামলায় চলতি সপ্তাহে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যনেল একাত্তরের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু ও প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপাকে একদিন করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা দাবি করেন, যা কিছু হয়েছে তার সবিই ওপরের নির্দেশেই করেছেন বলেও জানায় সূত্র।
সূত্র আরও জানায়, ৫ আগস্টের আগে-পরে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও ফুটেজও তাদের দেখানো হয়। এর এসব ভিডিও এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেন মোজাম্মেল বাবু।
এর আগে, ৭ জুন রুপা ও বাবুকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন ট্রাইব্যুনাল-১। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমতি দেওয়া হয়
একই সঙ্গে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১০ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়।
এই মামলায় নয়জন আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রুপা ও বাবু ছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া বাকি আসামিরা হলেন—সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, বরখাস্ত সেনাকর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম।একাত্তর ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।
এই মামলায় পলাতক আসামিরা হলেন— জুলাই গণহত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, পুলিশের সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার ও বেনজীর আহমেদ।
প্রসিকিউশন জানায়, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ঢাকাসহ দেশের চারটি স্থানে ৫৮ জন নিহত হন।
এর মধ্যে ঢাকায় ৩২, নারায়ণগঞ্জে ২০, চট্টগ্রামে ৫ ও কুমিল্লায় একজন নিহেত হওয়ার তথ্য শনাক্ত করেছে তদন্ত সংস্থা।