বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬ ০৮:৪৭ এএম
বেনজীর আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুর্নীতিসহ তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর তথ্যপ্রমাণ-সংবলিত নথি চূড়ান্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে ৩০ দিনের মধ্যে বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন জমা দিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আমিরাত কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিচারিক কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করা হয়। এ সময় আদালত দেশটির ‘ফেডারেল আইন নং ৩৯/২০০৬’-এর ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।
দুবাই থেকে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার ভিত্তিতে ইন্টারপোলের রেড নোটিস (নং- A-5174/4-2025) অনুযায়ী বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির প্রচলিত আইন অনুযায়ী, এই গ্রেপ্তারের পর ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক মাধ্যমের সাহায্যে লিখিতভাবে বাংলাদেশ সরকারকে একটি আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ জমা দিতে হবে। অন্যথায় আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, মানি লন্ডারিং, পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত একত্র করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ চলছে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানো হবে।
আইনজীবীরা বলছেন, বিদেশে অবস্থানরত কোনো পলাতক আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হলে অভিযোগের সমর্থনে নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহসিব হোসেন বলেন, বিদেশে অবস্থানরত আসামিকে প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে নথিপত্রের যথার্থতা ও আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অপরিহার্য। অন্যথায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ জটিল হয়ে পড়তে পারে।
জারি হয়েছে তিন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা :
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে তিনটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সেমিনার কক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান আমিনুল ইসলাম।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বেনজীর আহমেদের দুর্নীতি নিয়ে আওয়ামী লীগের শাসনামলেই বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। এসব প্রতিবেদন থেকেই তার বিপুল পরিমাণ সম্পদ ও নানা অপকর্মের তথ্য সামনে এসেছিল। বেনজীর, তার স্ত্রী ও সন্তানদের সম্পদের বিবরণও প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া দেশে ও বিদেশে তার শত শত কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ পাওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, সাবেক এই আইজিপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আগেই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিসও জারি করা হয়। অবশেষে তাকে গ্রেপ্তারের খবর জানলাম। তার বিরুদ্ধে আরও ১০টি মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের বলেন, দুবাই থেকে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের অভিযোগে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে। তিনি এ ঘটনার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন।