ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে সোমবার আবুল বারকাতের জামিন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার নীলক্ষেত এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাতের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই অধ্যাপকের জামিন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি খারিজ করে দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মাজহারুল ইসলাম।
এর আগে রবিবার আবুল বারকাতকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
ওইদিন তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং জামিন শুনানির জন্য সোমবার দিন নির্ধারণ করেন।
শুনানিতে আবুল বারকাতের আইনজীবী বাবুল মিয়া আদালতকে জানান, গত ৭ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় আপিল বিভাগ তাকে জামিন দেন।
তিনি বলেন, পাসপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার শর্তে ওই জামিন মঞ্জুর করা হয়েছিল। তবে কারাগার থেকে মুক্তির আগমুহূর্তে তাকে নতুন করে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, এ ঘটনার সঙ্গে তার মক্কেলের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।
আবুল বারকাতের আরেক আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন তার বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জামিনের আবেদন করেন।
তিনি বলেন, আবুল বারকাতের মতো একজন ব্যক্তির এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই এবং তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগও উপস্থাপন করা হয়নি।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, তদন্তে আবুল বারকাতের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
এছাড়া তিনি দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন বলেও দাবি করেন শামসুদ্দোহা সুমন।
এর আগে গত ১০ জুলাই রাতে ঢাকার ধানমন্ডির ৩ নম্বর সড়কের বাসা থেকে আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জনতা ব্যাংক থেকে অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে জালিয়াতির মাধ্যমে ২৯৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পরে গত ৭ জুন ওই মামলায় আপিল বিভাগ থেকে জামিন লাভ করলেও কারাগার থেকে মুক্তি পাননি তিনি।
কারণ একই দিনে জুলাই আন্দোলনের সময় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে নিউমার্কেট থানার নীলক্ষেত এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহত হন।
এ ঘটনায় নিহতের শ্যালক আব্দুর রব বাদী হয়ে ওই বছরের ২১ আগস্ট নিউমার্কেট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ১৩০ জনকে আসামি করা হয়।