প্রতীকী ছবি
শিশুশ্রম প্রতিরোধে জন্মনিবন্ধন একটি কার্যকর ও শক্তিশালী হাতিয়ার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। শিশুর পরিচয় নিশ্চিতকরণ, অধিকার সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় সেবা প্রাপ্তির প্রথম ধাপ হিসেবে জন্মনিবন্ধনের গুরুত্ব অপরিসীম।
‘রেড কার্ড টু চাইল্ড লেবার: ফেয়ার প্লে ফর চিলড্রেন, ডিসেন্ট ওয়ার্ক ফর অ্যাডাল্টস’ প্রতিপাদ্য নিয়ে শুক্রবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। এ উপলক্ষে শিশুশ্রম প্রতিরোধ ও ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে জড়িয়ে পড়া শিশুদের সুরক্ষায় কার্যকর নীতি জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি শিশুর জন্মনিবন্ধন নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দেশে বর্তমানে জন্মনিবন্ধনের গড় হার প্রায় ৫০ শতাংশ। পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এ হার মাত্র ৪০ শতাংশ। ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু এখনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃত পরিচয় থেকে বঞ্চিত। জন্মনিবন্ধনের অভাবে শিশুদের প্রকৃত বয়স যাচাই কঠিন হয়ে পড়ে, যা তাদের অকালেই শ্রমবাজারে প্রবেশ ও বিভিন্ন ধরনের শোষণের ঝুঁকিতে ফেলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ সংশোধন করে সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ওপর জন্মনিবন্ধনের আইনগত দায়িত্ব অর্পণ করা হলে দেশের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জন্ম নেওয়া প্রায় ৬৭ শতাংশ শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধনের আওতায় আসবে। এর ফলে জন্মনিবন্ধনের হার দ্রুত বৃদ্ধি পাবে এবং শিশুশ্রম প্রতিরোধের পাশাপাশি শিশু অধিকার সুরক্ষায়ও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হবে।
তারা বলেছেন, এ উদ্যোগ ২০৩০ সালের মধ্যে সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস (সিআরভিএস) কর্মসূচির শতভাগ নিবন্ধন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ৮.৭ অনুযায়ী শিশুশ্রম ও শিশু শোষণ বন্ধের প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করবে।
বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে এক প্রতিক্রিয়ায় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা'র নির্বাহী পরিচালক, এবিএম জুবায়ের বলেন, “আইন সংস্কারের মাধ্যমে প্রতিটি শিশুর জন্মনিবন্ধন নিশ্চিত করা গেলে শিশুশ্রম এবং শিশুদের প্রতি শোষণ ও বঞ্চনা কমে আসবে”।