প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে
ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বৃহস্পতিবার প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘আবহাওয়া, দুর্যোগ ও জনস্বার্থে সাংবাদিকতা’ শীর্ষক মিডিয়া সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি ও জনদুর্ভোগ কমাতে আগাম সতর্কবার্তার সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ঈর্শ্বণীয় অগ্রগতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বৃহস্পতিবার প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘আবহাওয়া, দুর্যোগ ও জনস্বার্থে সাংবাদিকতা’ শীর্ষক মিডিয়া সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বক্তারা বলেন, গণমাধ্যমের সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পেলে মানুষের জান-মালের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রতিরক্ষা সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান।
প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক ফিরোজ জামান চৌধুরীর উপস্থাপনায় আরও বক্তব্য রাখেন দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (শরনার্থী বিষয়ক সেলের প্রধান) মোহাম্মদ নাজমুল আবেদীন,
সতর্কীকরণকেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, পার্থ প্রতিম বড়ুয়া, চ্যানেল আই এর চিফ নিউজ এডিটর মীর মাশরুর জামান, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস, আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক, সিপিপির ডেপুটি ডিরেক্টর মো. আশরাফ হোসেন খানসহ আরও অনেকে।
আশরাফ উদ্দিন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়ছে। তবে আগাম সতর্কবার্তা প্রচারের কারণে ঘূর্ণিঝড়ে মৃত্যুর সংখ্যা ২০ জনের নিচে নেমে এসেছে। তিনি সহজ ভাষায় তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান।
দুর্যোগের প্রভাব নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও প্রান্তিক মানুষের উপর সবচেয়ে বেশি পড়ে, এজন্য সংবাদ উপস্থাপনে যথাযথ বিষয়টি সামনে রাখতে হবে বলেও দাবি করেন তিনি।
মো. মুমিনুল হক বলেন, দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিনিয়ত ঘটে থাকে। আবহাওয়া অধিদপ্তর নিরলসভাবে দুর্যোগের তথ্য পৌঁছে দিতে কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৫ সালে কেট্রিন হ্যারিকেনে বাংলাদেশকে অনুসরণীয় বলে উল্লেখ করেছে।
তিনি বলেন, আমরা ভুল তথ্য থেকে উঠে আসতে চেষ্টা করছি। আবার মিডিয়াতে অনেক সময় ভুল তথ্য যাচ্ছে। এতে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।
মোহাম্মদ নাজমুল আবেদীন বলেন, দুর্যোগের সতর্কবার্তা পৌঁছানো ও উদ্ধার কাজের জন্য সিপিপির ৮০ হাজার ৬৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে। দেশে ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ১০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, বর্তমানে তা কমে এসেছে।
মো. রেজওয়ানুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ আগে বিশ্বের ১১তম দুর্যোগপ্রবণ বেশ ছিল। বর্তমানে তা উন্নতি করে ১৩তম দেশে স্থান পেয়েছে। দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দুর্যোগের সময় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হয়। এখন গবাদিপশুর আশ্রয়ও দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৌসুমী বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় বেশি ছিল। এখন আকর্স্মিক বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, বজ্রপাতে মানুষের সচেতনতা বাড়ানো দরকার। কেননা এ দুর্যোগে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।
মীর মাশরুর জামান বলেন, আমাদের নিজেদের আবহাওয়া ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোর উন্নয়ন দিকগুলো তুলে ধরতে হবে।
কবিতা বোস বলেন, উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তা নিয়ে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল কাজ করে। তিনি বলেন, দুর্যোগের প্রভাব সবার ওপর সমানভাবে পড়ে না। নারী, মেয়ে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের জন্য দুর্যোগপূর্ব সতর্কবার্তা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী সেবার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বজ্রপাতের আগাম সতর্কবার্তা এবং করণীয় সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, দেশে ৩০ টার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে থাকে। প্রতিটি দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা আবহাওয়া অধিদপ্তর দেয়। মডেল বেইজড ও পর্যবেক্ষণ দুই ধরনের তথ্য দেওয়া হয়। পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা যাদের নেই তাদের দ্বারা ভুল বার্তা যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, মার্চ-এপ্রিলের বৃষ্টিপাতের স্থান ও সময় নিয়ে নির্দিষ্ট করে কথা বলা কঠিন। চলতি বছরে কালবৈশাখীতে ১৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে।