প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ১ ঘণ্টা আগে
জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ১০ হাজার ৫ শত ৩৩ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ১০ হাজার ৫ শত ৩৩ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বৃহস্পতিবার বিকালে এ প্রস্তাব করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাতের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, বন্যাসহ নানাবিধ প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত অভিঘাতে জর্জরিত। আমাদের লক্ষ্য ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা”।
“এ উদ্দেশ্য পূরণে আমাদের সরকার ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, যেমন- আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এর ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩.৫ লাখ সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে”।
তিনি বলেন, “ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি কর্মসূচির আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে নিজ বাসায় বা আঙিনায় ১ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনের ৫০ শতাংশকে কার্বন ট্রেডিং কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘সার্কুলার ফিউচার মডেল’ বাস্তবায়ন করা হবে”।
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের গভীরতা ও ব্যাপ্তি বিবেচনায় বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অধীনে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন তিনি।
পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, “সমন্বিত ও সার্বিক পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সেচ, বন্যা ব্যবস্থাপনা, নদীভাঙন রোধ, ভূমি পুনরুদ্ধার, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, নিষ্কাশন
ব্যবস্থার উন্নয়ন, লবণাক্ততা প্রতিরোধ ইত্যাদি বিষয়ে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যেমন-সরকার দেশজুড়ে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে ব্যাপক খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে”।
বাজেটে প্রস্তাবের সময় মন্ত্রী বলেন, “আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে, যার মধ্যে ৬ হাজার ৫৯৮ কি.মি. খাল খননের কার্যক্রম চলমান রয়েছ”।
হাওড়-বাওর অঞ্চলের সমন্বিত উন্নয়ন এবং উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ততা নিরসণ করার কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে আগামী ৭ বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এ প্রকল্পে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে।
“এছাড়াও সরকার দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যবদল ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করছে”।