২০২৬-২০২৭ সালের বাজেটে কর্মসংস্থানমুখী অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
২০২৬-২০২৭ সালের বাজেট বক্তৃতায় দেশব্যাপী কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যাপক পরিকল্পনা পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এতে বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি কৌশলের ভিত্তিতে বিভিন্ন খাতভিত্তিক কর্মসংস্থানকে প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এতে বাজেট ঘাটতি দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
সংসদে অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় জানান, শিল্প ও সেবা খাতে কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকার শিল্প, সেবা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং আধুনিক ফ্রিল্যান্সিং শিল্পে কর্মসংস্থান সম্প্রসারণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ, তরুণ উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা এবং নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে।
তিনি আরও জানান, উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানিমুখী শিল্প সম্প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে মধ্যমেয়াদে কর্মসংস্থানের কাঠামোগত ভারসাম্য আনা হবে।
এছাড়া, ক্রিয়েটিভ খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। সরকারের এই সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে একটি উচ্চ উৎপাদনশীল, দক্ষ এবং টেকসই কর্মসংস্থানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে, যা আয় বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করবে।
বাজেট বক্তৃতায় ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে এ খাতকেও কর্মসংস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপখাত হিসেবে তুলে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।
আর্ট, সংগীত, থিয়েটার ইত্যাদি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকাশে বিশেষায়িত জোন গড়ে তুলে এ খাতের শিল্পী-কলাকুশলীদের জীবন-মান উন্নয়ন ও জনসাধারণের চিত্তবিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
খেলাধুলাকে অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে গ্রহণ করার কথা বলা হয়। এবারের বাজেটে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি নিয়ে বিস্তারিত প্রস্তাবসমূহ ষষ্ঠ অধ্যায়ের খাতভিত্তিক অগ্রাধিকার অংশে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় জানানো হয়েছে, একটি অর্থনীতি যখন শিল্প ও উৎপাদন খাতের গতিশীলতা হারায়, তখন কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হয় এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায়। বিগত সময়ে দেশের শ্রমবাজারে এই প্রবণতা স্পষ্টভাবে লক্ষিত হয়েছে। এসব বিষয়ে বাজেটে নানামুখী কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।