উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইলেকট্রনিক্স শিল্প এবং তরুণদের উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে দেশের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে একাধিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে দেশের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের একটি বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করছে। এ লক্ষ্যে এআই ব্যবহার করে স্মার্ট সিটি নির্মাণ, নাগরিক সেবাকে আরও জনবান্ধব ও কার্যকর করা এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় এআই প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রের জন্য দক্ষ ও প্রযুক্তি-সক্ষম মানবসম্পদ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের কর্মপরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- তরুণ জনগোষ্ঠীর দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন এবং এআই-প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা তৈরি। পাশাপাশি সরকারি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সেবা প্রদানে এআই-ড্রিভেন ডেটা সেন্টার ব্যবহারের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর, তথ্যনির্ভর ও গতিশীল করার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়িয়ে নাগরিক সেবার মান উন্নয়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং জবাবদিহিতা জোরদারের পরিকল্পনাও রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি সেবা ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তর আরও ত্বরান্বিত হবে এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী হবে।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা বিবেচনায় নতুন উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ অর্থ ‘স্টার্টআপ তহবিল’ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
তহবিল থেকে নারী উদ্যোক্তা তৈরি, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, তরুণ উদ্যোক্তা গড়ে তোলা এবং উদ্ভাবনভিত্তিক উদ্যোগে সহায়তা দেওয়া হবে।
সরকারের এসব পদক্ষেপ বাংলাদেশকে একটি উদ্ভাবননির্ভর, প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।