প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ আবার চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ আবার চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করা অর্থের উৎস নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা হবে না। তবে করদাতাকে নির্ধারিত কর ও অতিরিক্ত জরিমানা দিতে হবে।
জমি বা সম্পত্তি কেনাবেচার ক্ষেত্রে দলিলে উল্লেখিত মূল্যের চেয়ে প্রকৃত লেনদেন বেশি হলে সেই অতিরিক্ত অর্থ ঘোষণা করা যাবে। এ সুবিধা ক্রেতা ও বিক্রেতা-উভয় পক্ষই পাবেন।
বাজেটে প্রস্তাব অনুযায়ী, আগে অপ্রদর্শিত থাকা অর্থের ওপর নিয়মিত হারে কর দিতে হবে। ব্যক্তিগত করদাতার ক্ষেত্রে করের হার সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। এর সঙ্গে প্রদেয় করের ওপর আরও ২০ শতাংশ জরিমানাও দিতে হবে।
ধরা যাক, কোনো সম্পত্তির দলিল মূল্য ৫০ লাখ টাকা। কিন্তু প্রকৃত লেনদেন হয়েছে ৩ কোটি টাকায়। এ ক্ষেত্রে বাকি অর্থ কর ও জরিমানা দিয়ে ঘোষণা করা যাবে। তখন অর্থের উৎস নিয়ে কোনো কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন তুলবে না।
তবে এ উদ্যোগ নিয়ে সংশয় রয়েছে আবাসন খাতে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, সাধারণ কর হার বহাল থাকলে অনেকেই এ সুযোগ নিতে আগ্রহী হবেন না। তারা নির্দিষ্ট হারে কর নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে কর বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের দায়মুক্তির বিরোধিতা করছেন। তাদের মতে, এতে অবৈধ অর্থ বৈধ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এনবিআরের সাবেক সদস্য সৈয়দ মো. আমিনুল করিম বলেছেন, এমন ব্যবস্থা সৎ করদাতাদের প্রতি অন্যায় হতে পারে এবং কর ব্যবস্থার নৈতিকতাকে দুর্বল করতে পারে। ফলে প্রস্তাবিত উদ্যোগটি আবাসন খাতে নতুন সুযোগ তৈরি করলেও এর গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাব নিয়ে বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে।