প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৪ ঘণ্টা আগে
৬০ নিত্যপণ্যে কমছে কর। গ্রাফিক্স: সংগৃহীত
উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের মধ্যে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে বিভিন্ন পণ্য ও খাতে উৎসে কর ও অগ্রিম আয়কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে।
সরকারের দাবি, এসব পদক্ষেপ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রায় ৬০ ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও কৃষিপণ্যের ওপর উৎসে কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, ভোজ্যতেল, মাছ, মাংস, ডিম, গবাদিপশু ও কৃষিপণ্যের বিভিন্ন উপকরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা, এসব পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় করের চাপ কমলে বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে।
স্বাস্থ্য খাতেও কর সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ অগ্রিম কর সম্পূর্ণ মওকুফের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে শারীরিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ব্যবহৃত ১৫ ধরনের পণ্যের ওপর অগ্রিম আয়কর কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার ব্যবসাকে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় আনতে এ খাতে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থা উৎসাহিত করতে বৈদ্যুতিক বাস, ট্রাক ও চার্জিং স্টেশন আমদানির ক্ষেত্রে উৎসে কর প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে।
প্রযুক্তি খাতেও কর ছাড়ের সুবিধা রাখা হয়েছে। কম্পিউটার প্রিন্টার, ডাটা প্রসেসিং যন্ত্র, ফ্ল্যাশ মেমোরি ও মনিটর আমদানিতে অগ্রিম কর কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। দেশীয় মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল আমদানিতেও করহার হ্রাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, পুনর্ব্যবহারযোগ্য কাঁচামাল, শিল্পের কাঁচামাল এবং টেলিযোগাযোগ খাতে বিভিন্ন পর্যায়ে উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ, বিমা খাত এবং শিল্পঋণের সুদের ওপর করহারও কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে বিনিয়োগ ব্যয় হ্রাস পায় এবং নতুন শিল্প স্থাপনে উৎসাহ সৃষ্টি হয়।
সামগ্রিকভাবে এসব প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় কমানো, বাজারে মূল্যচাপ প্রশমিত করা এবং শিল্প-বাণিজ্যে গতি আনা।