প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
বাড়ছে করমুক্ত আয়ের সীমা। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
করদাতাদের জন্য আয়কর ব্যবস্থাকে আরও পূর্বানুমানযোগ্য ও স্থিতিশীল করতে আগামী পাঁচ বছরের জন্য ব্যক্তিশ্রেণির করহার ও করমুক্ত আয়ের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে করদাতাদের ভবিষ্যতে কত হারে কর দিতে হবে, সে বিষয়ে আগাম ধারণা পাওয়া যাবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে। পরবর্তী দুই করবর্ষ অর্থাৎ ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ সালে এই সীমা ৪ লাখ টাকায় উন্নীত হবে। ২০৩০-৩১ করবর্ষে করমুক্ত আয়ের সীমা আরও বাড়িয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
বিশেষ শ্রেণির করদাতাদের জন্যও বাড়তি সুবিধা রাখা হয়েছে। নারী করদাতা এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী প্রবীণ নাগরিকদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। পরবর্তী দুই বছরে তা ৪ লাখ ৫০ হাজার এবং ২০৩০-৩১ করবর্ষে ৫ লাখ টাকায় উন্নীত হবে।
একইভাবে তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ধাপে ধাপে ৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও গেজেটভুক্ত ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়ের সীমা ২০২৬-২৭ সালে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে ২০৩০-৩১ সালে ৬ লাখ টাকায় পৌঁছাবে।
এছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতা-মাতা বা আইনানুগ অভিভাবক প্রতি প্রতিবন্ধী সন্তান বা পোষ্যের জন্য অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা করসুবিধা পাবেন।
করহারের ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষে প্রথম ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আয় করমুক্ত থাকবে। এরপর পরবর্তী ৩ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৪ লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকার ওপর ২০ শতাংশ এবং পরবর্তী ২০ লাখ টাকার ওপর ২৫ শতাংশ কর প্রযোজ্য হবে। এর বেশি আয়ের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ করহার বহাল থাকবে।
অন্যদিকে ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ করবর্ষে প্রথম ৪ লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ করবর্ষে প্রথম ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় করমুক্ত রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ আয়ের স্তরে ৩ কোটি টাকার বেশি আয়ের ওপর ৩৫ শতাংশ করহার আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।