সংশোধিত বাজেটের তুলনায় বরাদ্দ বেড়েছে ৪৫৭ কোটি টাকা, যা প্রশাসনিক ব্যয় ও জনবল ব্যবস্থাপনায় সরকারের বাড়তি মনোযোগের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সরকারের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জন্য ২০২৬–২৭ অর্থবছরে ৪ হাজার ৯৪৭ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় এই বৃদ্ধি মাত্র ৪৮ কোটি টাকা বা প্রায় ১ শতাংশ।
তবে সংশোধিত বাজেটের তুলনায় বরাদ্দ বেড়েছে ৪৫৭ কোটি টাকা, যা প্রশাসনিক ব্যয় ও জনবল ব্যবস্থাপনায় সরকারের বাড়তি মনোযোগের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার এই বরাদ্দ প্রস্তাব করেন।
তার উপস্থাপিত বাজেট অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মূল বরাদ্দ ছিল ৪ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা। তবে বছরের মাঝামাঝি সময়ে ব্যয় পুনর্মূল্যায়নের পর সংশোধিত বাজেট কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৪৯০ কোটি টাকায়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতায় মূলত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবস্থাপনা, নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক সংস্কার এবং সরকারি কর্মব্যবস্থার আধুনিকায়নসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
ফলে মন্ত্রণালয়টির বরাদ্দকে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক সক্ষমতার অন্যতম সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এবারের বাজেটে সামগ্রিকভাবে ব্যয়সংকোচন ও রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হলেও জনপ্রশাসন খাতের বরাদ্দে কাটছাঁট না করে সামান্য বৃদ্ধি রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি সেবার ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এই খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য মোট বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেটগুলোর একটি।
এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে মোট বাজেট ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
এই ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ-দুই উৎস থেকেই ঋণ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে।
অভ্যন্তরীণ ঋণের বড় অংশ, অর্থাৎ ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা আসবে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে। সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজস্ব আহরণের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জন এবং ব্যাংক খাত থেকে বিপুল ঋণ গ্রহণ-দুই বিষয়ই আগামী অর্থবছরে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
একই সঙ্গে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি ও সরকারি সেবার মান উন্নয়নে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে উপস্থাপিত এই বাজেট দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট।
বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর এটি প্রথম বাজেট।
সংসদীয় প্রক্রিয়া শেষে রাষ্ট্রপতির সম্মতি সাপেক্ষে আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছর কার্যকর হবে।