× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শিল্প সচিব ওএসডি, জায়গায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে বিস্ময়

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে

বাংলাদেশ শিল্প মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশ শিল্প মন্ত্রণালয়।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাত্র দেড় বছরের মধ্যেই মো. ওবায়দুর রহমানকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার জারি হওয়া এক প্রজ্ঞাপনে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে তার স্থলে চুক্তিভিত্তিক একজন কর্মকর্তাকে সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

সরকারের এ সিদ্ধান্তের পেছনে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ জানানো হয়নি। তবে সচিবালয় ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

প্রশ্ন উঠছে-একজন কর্মরত সচিবকে সরিয়ে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার প্রয়োজন কেন হলো? এটি কি প্রশাসনিক প্রয়োজন, নাকি প্রশাসনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পুরোনো সংস্কৃতিরই ধারাবাহিকতা?


কর্মজীবনে পরিচিতি

বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা মো. ওবায়দুর রহমান ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।

কর্মজীবনের শুরুতে পটুয়াখালীতে সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে পঞ্চগড়, বাগেরহাট ও নালিতাবাড়ীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি), নারায়ণগঞ্জ, নেত্রকোনা ও খুলনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), বাগেরহাটে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

শিল্প মন্ত্রণালয়ে যোগদানের আগে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ (এপিডি) অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ছিলেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের অতিরিক্ত দায়িত্বও পান।

সহকর্মীদের অনেকে তাকে সৎ, মিতব্যয়ী, নম্র ও দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে মূল্যায়ন করেন। প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অনিয়মের কোনো উল্লেখযোগ্য অভিযোগ কখনো সামনে আসেনি।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশ্য কোনো প্রশাসনিক ব্যর্থতা বা বিতর্কের ঘটনা জানা যায়নি। ফলে হঠাৎ তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেকের কাছে অপ্রত্যাশিত মনে হয়েছে।

তবে সরকারের সিদ্ধান্তের পেছনে কী কারণ কাজ করেছে, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে সচিবালয়ের বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের আলোচনা চলছে।

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পুরোনো বিতর্ক

বাংলাদেশের জনপ্রশাসনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নতুন কোনো বিষয় নয়। আশির দশকে বিশেষায়িত ও কারিগরি পদে দক্ষ জনবলের ঘাটতি পূরণের জন্য এ প্রথা চালু হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি রাজনৈতিক সরকারগুলোর অন্যতম বিতর্কিত প্রশাসনিক হাতিয়ার হিসেবে পরিচিতি পায়।

‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’-এর ৪৯ ধারায় অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জনস্বার্থে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে কর্মরত ও যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগ সীমিত করে অবসরপ্রাপ্ত বা রাজনৈতিকভাবে আস্থাভাজন ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয় এবং প্রশাসনের পেশাদারিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।


আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপি—ধারাবাহিকতা একই?

প্রশাসনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকারের সময়। একই কর্মকর্তাকে একাধিকবার চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া, দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রাখা এবং দলীয় বিবেচনায় পদায়নের অভিযোগ উঠেছিল।

গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও বাধ্যতামূলক অবসর, ওএসডি এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবসহ বিভিন্ন পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সরকারের বক্তব্য হলো, প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এসব নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে এবং অপরিহার্য না হলে কাউকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না।


বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন

সাবেক সচিব ও জনপ্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সীমিত পরিসরে কিছু চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাস্তবতার কারণে প্রয়োজন হতে পারে। তবে এটি যেন নিয়মে পরিণত না হয়।

তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ওপর নির্ভরশীলতা প্রশাসনের স্বাভাবিক পদোন্নতি কাঠামোকে দুর্বল করে। এতে কর্মকর্তাদের মধ্যে পেশাগত অনিশ্চয়তা তৈরি হয় এবং মেধাভিত্তিক প্রশাসন গঠনের লক্ষ্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

২০১৪ সালে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য আলাদা নীতিমালা তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো সরকার এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করেনি।

মো. ওবায়দুর রহমানের ওএসডি হওয়ার ঘটনা আবারও সেই পুরোনো প্রশ্ন সামনে এনেছে-চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ কি সত্যিই ব্যতিক্রমী প্রয়োজনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, নাকি এটি এখনো প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিবেচনার একটি কার্যকর মাধ্যম?

এক সময় মাগুরা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি দায়িত্বে থাকলেও সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর মো. ওবায়দুর রহমান নিজেকে একজন পেশাদার আমলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন বলে তার সহকর্মীরা মনে করেন। তাদের প্রশ্ন, যদি তার কর্মদক্ষতা ও সততা নিয়ে গুরুতর কোনো প্রশ্ন না থাকে, তাহলে তাঁকে সরানোর কারণ কী?

সরকার এখনও এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। ফলে প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আর সেই সঙ্গে জোরালো হচ্ছে আরেকটি প্রশ্ন-জনপ্রশাসনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের এই দীর্ঘস্থায়ী ‘ক্ষত’ কি কখনও সত্যিই সারবে?

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা