× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

লাল ফিতায় বন্দি ফুড সাপ্লিমেন্ট ও হারবাল পণ্যের এনওসি

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে

লাল ফিতায় বন্দি ফুড সাপ্লিমেন্ট ও হারবাল পণ্যের এনওসি

দেশে মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ফুড সাপ্লিমেন্ট ও হারবাল পণ্যের বাজারও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ভিটামিন, মিনারেল, ওমেগা-৩, প্রোবায়োটিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন হারবাল ও প্রাকৃতিক উপাদানভিত্তিক পণ্যের চাহিদা এখন শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শে কিংবা সুস্বাস্থ্য রক্ষার উদ্দেশ্যে অনেকেই এসব পণ্য ব্যবহার করছেন। তবে সম্ভাবনাময় এই খাতটি প্রশাসনিক জটিলতায় সংকটের মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের।

ফুড সাপ্লিমেন্ট ও হারবাল পণ্য আমদানিকারকদের দাবি, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ) থেকে আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) পেতে বেশ দেরি হচ্ছে। এর ফলে বন্দরে প্রচুর পণ্য আটকে থাকছে এবং ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করেন, জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে ফুড সাপ্লিমেন্ট ও হারবাল পণ্যের মান, নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি এই ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ, সময়োপযোগী এবং ব্যবসাবান্ধবও হতে হবে।

ফুড সাপ্লিমেন্ট ও হারবাল পণ্য আমদানিকারকরা ডিজিডিএ থেকে নিবন্ধনপ্রাপ্ত। অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ প্রস্তুতকারী এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও একই কর্তৃপক্ষ নিবন্ধন দিয়ে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে উভয় খাতের প্রতিষ্ঠানই আমদানিকৃত পণ্যের জন্য এনওসি নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। কিন্তু অভিযোগ পাওয়া গেছে, গত কয়েক বছর ধরে এনওসি দেওয়ার প্রক্রিয়ায় নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগছে, বারবার সভা ও অতিরিক্ত যাচাইয়ের কারণে অনেক চালান বন্দরে আটকে যাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের ব্যয় বাড়ছে এবং বাজারেও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হচ্ছে।

আমদানিকারকদের অভিমতÑ অনেক পণ্য কাস্টমস হাউসে সপ্তাহের পর সপ্তাহ, এমনকি মাসের পর মাস আটকে থাকে। এ সময় কন্টেইনার ভাড়া, গুদামজাতকরণ ব্যয় এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বহন করতে হয়। এ সময় তাপমাত্রা-সংবেদনশীল কিছু পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়। খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এই খাতের বিকাশে নীতিগত সহায়তা ও প্রশাসনিক দক্ষতা জরুরি হয়ে উঠেছে।

ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, এনওসি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা শুধু তাদের আর্থিক ক্ষতিই করছে না, বরং বাজারে পণ্যের সরবরাহ চেইনেও প্রভাব ফেলছে। এতে ভোক্তাদের জন্য পণ্যের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সম্প্রতি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। ফুড সাপ্লিমেন্ট ও হারবাল পণ্যের এনওসি সংক্রান্ত একটি ফাইল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঔষধ প্রশাসন-১ শাখা হয়ে বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের দপ্তরে রয়েছে। বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফুড সাপ্লিমেন্ট ও হারবাল পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ব্লু বার্ড ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার মো. জাকারিয়া বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছি। বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পণ্য আটকে থাকায় অতিরিক্ত ব্যয় গুণতে হচ্ছে। দ্রুত এনওসি দেওয়া হলে ব্যবসায়ীরা স্বস্তি পাবেন এবং বাজারও স্থিতিশীল হবে। আশা করি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।’

তিনি বলেন, ‘আমদানিকারকরা আইন ও বিধিবিধান মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করতে চান। তাই এনওসি দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং প্রক্রিয়াটি সহজ করা জরুরি।’

জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশ্লেষক ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে ফুড সাপ্লিমেন্ট ও হারবাল পণ্য স্বাস্থ্যসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। তবে যেকোনো পণ্যের ক্ষেত্রে জনস্বার্থ ও নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বাগ্রে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে বৈধ ব্যবসায়ীদের যেন অযৌক্তিক প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে না হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘যদি কোনো পণ্য বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করে থাকে, তাহলে অনুমোদন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়া উচিত নয়। কারণ এতে ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হন, বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরও এর প্রভাব পড়ে। সরকারের উচিত ডিজিটাল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এনওসি আবেদন নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা।’

তার মতে, ‘বাংলাদেশে পুষ্টি ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। এই বাস্তবতায় ফুড সাপ্লিমেন্ট ও হারবাল খাতকে বৈজ্ঞানিক নিয়ন্ত্রণের আওতায় রেখে বিকাশের সুযোগ দিতে হবে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ব্যবসা পরিচালনার সুবিধার মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি করাই এখন সময়ের দাবি।’

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশাসনিক জটিলতা দীর্ঘস্থায়ী হলে এ খাতে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হওয়ার পাশাপাশি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং এনওসি প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করার মাধ্যমে এই সম্ভাবনাময় খাতকে এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা