× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণের মেগা বাজেট বৃহস্পতিবার

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী ১১ জুন বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নতুন সরকারের বাজেট ঘোষণা করবেন। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী ১১ জুন বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নতুন সরকারের বাজেট ঘোষণা করবেন। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বাজেট দিতে চলেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। যার আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী ১১ জুন বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নতুন সরকারের এ বাজেট ঘোষণা করবেন।

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই বাজেট পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মন্তব্য করেছেন, আগামী বাজেটের প্রধান লক্ষ্য দুটিÑ রাজস্ব ও বৈদেশিক অর্থায়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করার জন্য সরকারের প্রয়োজন হবে ‘আলাদিনের চেরাগ’।

বাজেটের আকার এত বড় হওয়ার কারণ নির্বাচিত সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিটি বড় প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন ঘটাতে চাইছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, মূলত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণেই আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার বড় করা হচ্ছে। শীর্ষ অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, আয়ের সংস্থান নিশ্চিত করার আগেই ব্যয়ের একটি বিশাল ফর্দ তৈরি হয়েছে, যা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “আগামী অর্থবছরে এত বড় বাজেটের অর্থায়নের জন্য সরকারের একটি ‘আলাদিনের চেরাগ’ প্রয়োজন হবে।”

তার মতে, “আগামী বাজেটের দুটি প্রধান লক্ষ্য অর্জন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। প্রথমটি হলো এনবিআরকে দেওয়া বিশাল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা, যা যেকোনো ধরনের রূপান্তরমূলক বা বৈপ্লবিক কর্মসূচি নিলেও এই অল্প সময়ে অর্জন করা যাবে না। অন্যটি হলো বৈদেশিক অর্থায়নের অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা।”

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা ও কৃষি খাতে বড় ধরনের ব্যয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সরকার ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা পরিবার কার্ড কর্মসূচির পরীক্ষামূলক বা পাইলটিং প্রকল্প শুরু করেছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটির আগামী অর্থবছরে ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটবে। আগামী অর্থবছরে এই কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ৪১ লাখ। এ জন্য এককভাবে সরকারের প্রয়োজন হবে ১২ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা।

তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাওয়া কোনো পরিবার অন্য কোনো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় কোনো ধরনের সুবিধা নিতে পারবে না।

সামাজিক নিরাপত্তার অন্যান্য প্রচলিত খাতেও সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও ভাতার পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। বয়স্ক ভাতার উপকারভোগী সংখ্যা বর্তমানের ৬১ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৬২ লাখ করা হচ্ছে। বর্তমানে এই উপকারভোগীরা মাসে মাত্র ৬৫০ টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে সাবেক অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সর্বমোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছিলেন। এর মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের পেনশন বাদে প্রকৃত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর জন্য বরাদ্দ ছিল ৮১ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা।

বর্তমানে জিডিপির তুলনায় সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বাংলাদেশের মোট বরাদ্দ মাত্র ১ দশমিক ৮৭ শতাংশ। তবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) স্বীকৃত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, এই খাতে একটি দেশের বার্ষিক ব্যয় দেশের মোট জিডিপির অন্তত ৫ শতাংশ হওয়া প্রয়োজন।

আসন্ন বাজেটে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের মাসিক সম্মানী ভাতা বর্তমানের ৩৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করা হচ্ছে।

একইভাবে বীর উত্তমদের ভাতা ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা এবং বীর বিক্রম ও বীর প্রতীকদের মাসিক ভাতা ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সাধারণ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার হার অপরিবর্তিত বা আগের মতোই থাকছে।

বর্তমানে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারপ্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন শ্রেণিতে যোগ্যতা ও আঘাতের মাত্রা অনুযায়ী ২৭ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা এবং সাধারণ বীর মুক্তিযোদ্ধারা প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে রাষ্ট্রীয় ভাতা পেয়ে আসছেন।

সামাজিক ও ধর্মীয় অবকাঠামো এবং পরিবেশ সুরক্ষায়ও সরকারের পক্ষ থেকে বড় ধরনের বরাদ্দের প্রস্তাব আসছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতা আগামী অর্থবছরে বহুগুণ বাড়ানো হচ্ছে।

চলতি বাজেটে যেখানে ধর্মীয় খাতে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ১৭ হাজার ৭৮৪ জন, সেখানে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৬৬৬ জন করা হচ্ছে।

এই বিশাল সংখ্যার মধ্যে ইমাম, পুরোহিত ও বিহার অধ্যক্ষ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন ৮৬ হাজার ৮৩৩ জন; মুয়াজ্জিন ও সেবাইত হিসেবে থাকবেন আরও ৮৬ হাজার ৮৩৩ জন। দেশের ৮২ হাজার খাদেমকেও এই কল্যাণমূলক পরিকল্পনার আওতায় আনা হবে।

চলতি অর্থবছরে যেখানে এ খাতে বরাদ্দ ছিল মাত্র ২৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, আগামী বাজেটে তা একলাফে বাড়িয়ে ১ হাজার ৮১ কোটি টাকা করা হচ্ছে।

একইভাবে গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখা খাল খনন কর্মসূচিতেও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই কর্মসূচির আওতায় ২৬ লাখ ৬৭ হাজার মানুষকে অন্তর্ভুক্ত রাখা হলেও আগামী অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৩৪ লাখ করা হবে।

এর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় চলমান বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে জনবল ও আর্থিক বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এই কর্মসূচির আওতায় যেখানে ৪৩ হাজার ২৪০ জন উপকারভোগী রয়েছে, সেখানে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৮০ হাজার করার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। 

এ ছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের জন্য চলমান মাসিক ভাতা কার্যক্রমেও সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে এ কর্মসূচির আওতায় মোট ১৪ হাজার ৬৫৬ জন সুবিধা পাচ্ছেন। যার মধ্যে শহিদ পরিবার ৮৪৪টি, ‘এ’ শ্রেণির গুরুতর আহত ১ হাজার ৬০৭ জন, ‘বি’ শ্রেণির আহত ১ হাজার ১২১ জন এবং ‘সি’ শ্রেণির আহত ১১ হাজার ৮৪ জন রয়েছেন।

এই খাতে চলতি অর্থবছরে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ২১২ কোটি ১ লাখ টাকা। আগামী অর্থবছরের নতুন প্রস্তাবে এ খাতে সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ১৬ হাজার ৫১৩ জন করা হয়েছে।

এই বিপুল পরিমাণ ব্যয়ের সংস্থান করতে গিয়ে সরকারের ওপর অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে বিশাল চাপ তৈরি হয়েছে। আগামী অর্থবছরের জন্য মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে।

চলতি অর্থবছরে এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। মূলত বিশাল বাজেটের আকাশচুম্বী ব্যয় মেটাতেই রাজস্ব আদায়ের এই অস্বাভাবিক বড় লক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা