প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৩ ঘণ্টা আগে
ধানমন্ডির রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে ডিএসসিসির গণশুনানিতে প্রশাসক মো. আবদুস সালামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নাগরিক সেবা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে রবিবার গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ডিএসসিসি’র অঞ্চল-১ এর আওতাধীন বিষয়াবলি নিয়ে ধানমন্ডির রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে এই গণশুনানির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
গণশুনানিতে অঞ্চল-১ এর অন্তর্ভুক্ত ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, কলাবাগান ও শাহবাগসহ সংলগ্ন এলাকার নাগরিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। এ সময় নাগরিকরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিচ্ছন্নতা, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্স, জনস্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিয়ে তাদের মতামত, অভিযোগ ও পরামর্শ তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ রবিউল আলম বলেন, “নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণে সরকার জনগণের অংশীদারিত্বভিত্তিক একটি জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ ডিএসসিসি’র এই গণশুনানি। নগর ব্যবস্থাপনায় সরকার, সিটি কর্পোরেশন এবং জনগণÑসবারই নিজ নিজ দায়িত্ব রয়েছে”।
তিনি বলেন, “এই গণশুনানি জনগণের প্রত্যাশা এবং সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে সেবার মান বৃদ্ধি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে”।
মন্ত্রী আরও জানান, ধানমন্ডি লেককে কোনোভাবেই বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে ধানমন্ডি এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হকার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, জনগণ যে পরিবর্তন ও উন্নয়ন দেখতে চায়, সরকার তা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নগর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, কোরবানির বর্জ্য অপসারণসহ সার্বিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন অতীতের সকল রেকর্ড অতিক্রম করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, নগরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, নাগরিকদেরও নিয়ম মেনে চলতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, লেকটিকে আরও নান্দনিক, পরিবেশবান্ধব ও জনবান্ধব করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং এখানে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে না।
হকার ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, নির্ধারিত স্থানে হকারদের ব্যবসা পরিচালনার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি ব্যবসা শেষে ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে রাখার বিষয়ে তাদের সচেতন করা হবে, যেন সিটি কর্পোরেশন সহজে তা অপসারণ করতে পারে।
তিনি আরও জানান, নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ঢাকা শহরের রিকশাচালক ও হকারদের একটি নিবন্ধন ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। যথাযথ নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া কেউ ঢাকা শহরে এসে তাৎক্ষণিকভাবে হকারি বা রিকশা চালানোর সুযোগ পাবে না।
ডিএসসিসি প্রশাসক আশ্বাস দেন, জনগণের প্রত্যাশা, অভিযোগ ও পরামর্শকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নগর সেবার মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। গণশুনানিতে উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যা ও প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি ও বাস্তবায়ন করা হবে।
উল্লেখ্য, পর্যায়ক্রমে ডিএসসিসি’র ১০টি অঞ্চলেই এই ধরনের গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।