পদত্যাগ করেছেন সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান আলী আকবর খান। ছবি: সংগৃহীত
পদোন্নতি না পাওয়ার পর স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণের আবেদন করেছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান, উপমহাপরিদর্শক আলী আকবর খান।
অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদে পদোন্নতির তালিকায় তার নাম না থাকায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে পুলিশ সদরদফতর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।
গত ১ জুন পুলিশ সদরদফতরের আদেশে আলী আকবর খানকে সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এরপর ৪ জুন পাঁচজন কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদে পদোন্নতি দেওয়া হলেও সেই তালিকায় তার নাম না থাকায় তার ভবিষ্যৎ দায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
জানা গেছে এরই প্রেক্ষিতে তিনি স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন করেন।
আবেদনপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর পুলিশ বাহিনীতে যোগদানের পর থেকে তিনি সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
তবে কর্মজীবনে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বঞ্চনার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন।
আবেদন অনুযায়ী, তিনি ২০০৯ সালে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন এবং ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে চাকরি থেকে অব্যাহতি পান। প্রায় ১৬ বছর পর ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তিনি পুনরায় চাকরিতে যোগ দেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০০৮ সালের পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাকে দীর্ঘ সময় কর্মক্ষেত্র থেকে দূরে থাকতে হয়েছে।
সম্প্রতি পদোন্নতি তালিকায় নাম না থাকায় তিনি আবারও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে মনে করছেন। তাই সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী তিনি স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আবেদনে তিনি ২০২৬ সালের ২ জুলাই থেকে স্বেচ্ছায় অবসর এবং পরবর্তী এক বছরের অবসর-পূর্ব ছুটির অনুমোদন চান।
অন্যদিকে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (প্রশাসন) স্বাক্ষরিত পৃথক এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, আলী আকবর খানের আবেদন যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে তার নাম ঘিরে অতীতের একটি ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০০৬ সালে চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে দায়িত্ব পালনকালে একজন জ্যেষ্ঠ ফটোসাংবাদিককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে, যা সে সময় সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।