ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞায় সংকটে পড়েছে বাংলাদেশের জাহাজভাঙা (শিপ ব্রেকিং) খাতের এক ইয়ার্ড মালিক। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ভাঙার জন্য চট্টগ্রামে নিয়ে আসা ‘এমটি মেমেই’ নামে একটি অয়েল ট্যাংকার জাহাজ এখন পুনরায় ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ৬১ কোটি টাকা মূল্যের জাহাজটি আমদানি করেছিল এসএন করপোরেশন।
জাহাজ ট্র্যাকিং সাইট ভেসেল ফাইন্ডারের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি গত ২৬ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে নোঙর করে। পরে সেখান থেকে সীতাকুণ্ডের শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ভাঙার জন্য নেওয়ার কথা ছিল জাহাজটির। তবে ২৮ মে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) ‘মেমেই’ জাহাজটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করে। এতে বেকায়দায় পড়ে জাহাজটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসএন করপোরেশন।
এসএন করপোরেশনের মালিক চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী এবং ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী। এ সম্পর্কে জানতে তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে এখন আর জাহাজটি ইয়ার্ডে নেওয়া হচ্ছে না। জাহাজটি মালিকপক্ষের কাছে ফেরত পাঠানো হবে। ইতোমধ্যে তারা সেই প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
ভেসেল ফাইন্ডারের তথ্য অনুযায়ী, পালাউ পতাকাবাহী ‘মেমেই’ (আইএমও : ৯১৩৩০৮২) একটি ৪৪ হাজার ৮০০ টন ধারণক্ষমতার রাসায়নিক ও তেলবাহী ট্যাংকার। ১৯৯৭ সালে নির্মিত জাহাজটির লাইট ডিসপ্লেসমেন্ট টনেজ (এলডিটি) ৯ হাজার ৮৭৭ দশমিক ১ টন, দৈর্ঘ্য ১৮০ মিটার এবং প্রস্থ ৩২ দশমিক ২ মিটার।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ‘মেমেই’ ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইরান থেকে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ছিল। এ অভিযোগের ভিত্তিতে জাহাজটির নিবন্ধিত মালিক হংকং ভিত্তিক এভার শাইনিং লিমিটেডকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। একই মালিকানাধীন ‘ফ্লোরা’ নামে আরেকটি জাহাজের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।