× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

৫০ বছরে দুধ উৎপাদন বেড়েছে আট গুণ, তবুও ঘাটতি ৭ লাখ টন

ফারুক আহমাদ আরিফ

প্রকাশ : ৮ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ১ ঘণ্টা আগে

দেশে ৫০ বছরে দুধ উৎপাদন বেড়েছে আটগুণ। ছবি: গেটি ইমেজেস

দেশে ৫০ বছরে দুধ উৎপাদন বেড়েছে আটগুণ। ছবি: গেটি ইমেজেস

বাংলাদেশে দুধ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও এখনও চাহিদার পুরোটা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫০ বছরে দেশে দুধ উৎপাদন ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন টন থেকে বেড়ে ১৫ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে। তবুও বছরে প্রায় ৭ লাখ টনের ঘাটতি রয়ে গেছে। মধ্যযুগীয় কবি ভারতচন্দ্র রায়ের বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’ বাঙালির দীর্ঘদিনের স্বপ্নের প্রতীক। কিন্তু উন্নত জাতের গাভির অভাব, চারণভূমির সংকট, পশুখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্র।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পশুখাদ্যের মূল্যহ্রাস, উন্নত জাতের গাভি সংগ্রহ, চারণভূমি সৃষ্টি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে পারলে দেশে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। 

ড. মো. মোরশেদুর রহমান বলেন, গত এক দশকে দেশে দুধ উৎপাদনে বড় ধরনের অগ্রগতি হলেও খামারিরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। পশুখাদ্যের দাম দ্রুত বাড়লেও সেই অনুপাতে দুধের দাম বাড়েনি। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্ষুদ্র খামারিরা উৎপাদন ব্যয় অনুযায়ী লাভ করতে পারছেন না।

দুধের বিশুদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু গরুর বাঁট থেকে দোহন করা দুধকে বিশুদ্ধ বলা যায় না। গরুকে কী ধরনের খাদ্য দেওয়া হচ্ছে, পরিবেশ ও জলবায়ুর প্রভাব কীÑ এসবও দুধের গুণগত মান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিকল্প ও পুষ্টিকর পশুখাদ্য উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে ড. মোরশেদুর রহমান বলেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রায় গরুর শারীরিক চাপ বৃদ্ধি পায়, হরমোন নিঃসরণ কমে যায় এবং দুধ উৎপাদন ও গুণগত মান উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি খামারে তাপ নিয়ন্ত্রণে ফ্যান ও অন্যান্য ব্যবস্থা বাড়ানোর পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে মিথেন গ্যাস নিঃসরণ কমাতে উপযোগী খাদ্য ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, এতে গরুর শক্তির অপচয় কমে এবং সেই শক্তি দুধ উৎপাদনে কাজে লাগে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪-৭৫ অর্থবছরে দেশে দুধ উৎপাদন ছিল ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন। ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়ায় ২ দশমিক ৮ মিলিয়ন টন। ২০১২-১৩ অর্থবছরে উৎপাদন ছিল ৬ দশমিক ৯ মিলিয়ন টন, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে ১৫ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে। অর্থাৎ ২০১২-১৩ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত মাত্র ১৩ বছরে উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৯ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন টন।

চলতি ২০২৬ সালের হিসাবে দেশে বছরে দুধের চাহিদা ১ কোটি ৬২ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন। বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন। ফলে ঘাটতি থাকছে প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমান বলেন, ২৫০ মিলিলিটার বা এক গ্লাস দুধে ১৫০ থেকে ১৭০ কিলোক্যালরি শক্তি, প্রায় ৮ গ্রাম প্রোটিন, ৮ গ্রাম চর্বি এবং ১২ গ্রাম শর্করা থাকে। বাংলাদেশে একজন মানুষ বছরে গড়ে ৮১ লিটার দুধ পান করেন, যা বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় কম।

তিনি জানান, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে জনপ্রতি দৈনিক দুধগ্রহণে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। ভারতে দৈনিক জনপ্রতি দুধগ্রহণ ৩২২ মিলিলিটার এবং পাকিস্তানে ৩২০ মিলিলিটার। বাংলাদেশে এ পরিমাণ ২৩৯ মিলিলিটার। অন্যদিকে বিশ্বের সর্বোচ্চ দুধগ্রহণকারী দেশ ফিনল্যান্ড, যেখানে একজন মানুষ বছরে গড়ে ৩৬১ লিটার দুধ পান করেন।

বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশের দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদা পূরণে উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি-নির্ভরতা কমাতে হবে। ভবিষ্যতে রপ্তানির সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান তুহিন জানান, খামারিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বিভিন্ন জেলায় সেলস সেন্টার ও দুগ্ধ হাব গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি মিল্ক প্রসেসিং সেন্টার ও গুঁড়ো দুধ উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে। তার মতে, নব্বইয়ের দশকে শুরু হওয়া কৃত্রিম প্রজনন কর্মসূচির সুফলই বর্তমানে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

তিনি আরও বলেন, উন্নত জাতের গবাদিপশু তৈরিতে কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। খামারিদের প্রশিক্ষণ ও নতুন খামার স্থাপনে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। দানাদার খাদ্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে উন্নত জাতের নেপিয়ার ঘাসের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা