প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬ ২১:২০ পিএম
আপডেট : ১৮ মে ২০২৬ ১৭:৪৪ পিএম
দীর্ঘ ১১ বছর পর আগামী ২৮ থেকে ৩১ মে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত “ইন্ডিয়া-আফ্রিকা সামিট ২০২৬”। এই সম্মেলনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষত গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল বিশ্বের ভবিষ্যৎ সহযোগিতা ও কৌশলগত সম্পর্ক নিয়ে।
সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফ্রান্সের “আফ্রিকা ফরওয়ার্ড সামিট”-এর মাত্র দুই সপ্তাহ পর। পাশাপাশি ২০২৩ সালে ভারতের জি-২০ সভাপতিত্বকালে আফ্রিকান ইউনিয়নকে স্থায়ী সদস্যপদ পাইয়ে দেওয়ার উদ্যোগও ভারত-আফ্রিকা সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো সাবেক উপনিবেশভুক্ত দুই অঞ্চলের মধ্যে এমন এক সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তোলা, যা কেবল সম্পদ আহরণ নয়, বরং যৌথ সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং টেকসই উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেবে।
ভারত বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র, চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি এবং প্রায় ১৪৭ কোটির মানুষের আবাসস্থল। অপরদিকে আফ্রিকায় রয়েছে প্রায় ১৫৮ কোটির জনসংখ্যা ও ৫৪টি দেশ। দুই অঞ্চলেরই রয়েছে ঔপনিবেশিক ইতিহাস, বিপুল যুবশক্তি এবং উন্নয়ন ঘিরে অভিন্ন চ্যালেঞ্জ।
সম্মেলনে আফ্রিকার ৪০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে টেকসই উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ ব্যবস্থাপনা।
বিশেষ করে “ক্রিটিক্যাল মিনারেলস কমপ্যাক্ট” নামে সম্ভাব্য একটি চুক্তি নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। আফ্রিকায় বিশ্বের প্রায় ৩০ শতাংশ কোবাল্ট, লিথিয়াম, বিরল মাটি, তামা ও গ্রাফাইটের মজুত রয়েছে—যা আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভারত ইতোমধ্যে আফ্রিকার ৪৩টি দেশে ২০০টিরও বেশি উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা দিয়েছে। ভারতীয় কোম্পানিগুলো জাম্বিয়া ও নামিবিয়ার মতো দেশে লিথিয়াম ও বিরল খনিজ অনুসন্ধানে আগ্রহ দেখিয়েছে। এবার ভারত স্থানীয় পর্যায়ে খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ, ব্যাটারি কারখানা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দিতে পারে।
তবে সমালোচকদের মতে, ভারতের এই আগ্রহের পেছনে কৌশলগত ও বাণিজ্যিক স্বার্থও রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—আফ্রিকায় শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, নাকি শেষ পর্যন্ত এটি কেবল সম্পদ নিরাপত্তাকেন্দ্রিক সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
বিশ্ব যখন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদকে ঘিরে নতুন অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার মুখোমুখি, তখন ভারত-আফ্রিকা সম্মেলন ২০২৬ হয়ে উঠেছে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক মঞ্চ।
সম্মেলনটি হয়তো সব প্রশ্নের উত্তর দেবে না, তবে এটি স্পষ্ট করবে—পারস্পরিক আস্থা, যৌথ সমৃদ্ধি এবং উপনিবেশ-পরবর্তী অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সত্যিই কি নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা সম্ভব।