× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

লিবিয়ার শ্রমবাজারে নতুন দুয়ার খোলার আশা

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০২২ ২১:০৯ পিএম

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২২ ২১:১৬ পিএম

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও লিবিয়ার মধ্যে সরকারি পর্যায়ে প্রবাসী কর্মী পাঠাতে একটি সমঝোতা স্মারক হতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (২৭ নভেম্বর) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি এই সমঝোতা স্মারক সই হবে। এছাড়া প্রতি বছর ৩০ ডিসেম্বরকে ‘জাতীয় প্রবাসী দিবস’ সরকারিভাবে পালনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। 

মঙ্গলবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় মন্ত্রিসভার বৈঠক। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে বিকালে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সভার সিদ্ধান্ত জানান নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ার। মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে এটিই তার প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশগ্রহণ।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রবাসীদের সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এখন থেকে প্রতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় প্রবাসী দিবস উদযাপন করবে সরকার। দিবসটি উদযাপনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এ বিষয়ক পরিপত্রের ‘খ’ ক্রমিকে তা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। 

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশ ও লিবিয়ার মধ্যে জয়েন্ট কো-অপারেশন ইন দ্য ফিল্ড অব রিক্রুটমেন্ট অব ওয়ার্কার্স বিষয়ক সমঝোতা স্মারক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখন এমওইউ সই হবে। এটি হলে লিবিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগ স্থাপিত হবে। পাশাপাশি আমাদের শ্রমবাজারে নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে। কর্মীদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। শ্রমিকদের সব দিক বিবেচনা করে সমঝোতা স্বারকটি তৈরি করা হয়েছে।’ 

গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে যেসব শ্রমিক লিবিয়া থেকে ফেরত এসেছে তাদের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘লিবিয়া থেকে ফেরত আশা কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তাদের মধ্যে কেউ যেতে চাইলে তাদের আগে পাঠানো হবে। এমওইউ প্রস্তুত করার সময় লিবিয়ায় বাংলাদেশের দূতাবাস ও লিবিয়ার সরকার এবং আমাদের আইনবিষয়ক বিভাগের মতামত বিবেচনা করে করা হয়েছে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘প্রবাসীদের জন্য আমরা কী কী কার্যক্রম গ্রহণ করছি, সেই বিষয়গুলো জাতীয় প্রবাসী দিবসে প্রচার-প্রচারণা হবে। আমরা এরই মধ্যে ২১টি অনলাইন সেবা চিহ্নিত করেছি। এই সেবাগুলো প্রবাসীরা দূতাবাস বা মিশন থেকে নিতে পারবে। বিভিন্ন দেশের শ্রমিক হাবগুলোতে ডিজিটাল সার্ভিস চালু করা হবে। সেখানে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সুবিধা থাকবে। যে ২১টি অনলাইন সেবা রয়েছে, সেগুলো কীভাবে প্রদান করা যায়, সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করব। কিছু নির্দেশনাও এসেছে।’ 

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবসের পাশাপাশি ৩০ ডিসেম্বর প্রবাসী দিবস পালন করা হবে। চলতি বছর থেকেই দিবসটি দেশে প্রথমবারের মতো উদযাপন করা হবে। প্রথমবার, সেজন্য হয়তো বেশি জাঁকজমকপূর্ণ না হলেও দিবসটি উদযাপন করা হবে।

জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতির খসড়া অনুমোদন

জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি (এনএসডিপি)-২০২২ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে সরকার। গত অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় ৭ দশমিক ২৫ জিডিপির প্রবৃদ্ধি বিদ্যমান রয়েছে। সেটি ধরে রাখার জন্য এবং আরও বাড়ানোর জন্য উন্নত দেশে উত্তরণের লক্ষ্যে কারিগরি বৃত্তিমূলক শিক্ষা, প্রশিক্ষণবিষয়ক সামাজিক স্বীকৃতি ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার কলাকৌশল এবং অভিন্ন মান সংবলিত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। 

তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত এই নীতিতে মোট ১০টি অধ্যায় রয়েছে। সেখানে রূপকল্প ও রূপকল্পের ভিত্তিতে দক্ষতা উন্নয়ন, গুণগতমান নিশ্চিত করা, সব ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতি প্রয়োগ, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া, সেবা দিতে যেসব জায়গা পিছিয়ে রয়েছে, সেসব জায়গায় প্রবেশগম্যতা বৃদ্ধি, শিক্ষার সুযোগ এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বীকৃতি চুক্তি ইত্যাদি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমাদের সার্টিফিকেটগুলো বিশ্বের অনেক দেশ গ্রহণ করতে চায় না।’

কবির বিন আনোয়ার বলেন, ‘সেসব বিষয় লক্ষ্য রেখে প্রবাসে দক্ষতা উন্নয়ন এবং দক্ষতা ও প্রশিক্ষণে শিল্প খাতের ভূমিকা-  এসব যোগাযোগ শক্তিশালী করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রশিক্ষণ বিষয়ক গবেষণা, জরিপ পর্যালোচনা ম্যানুয়াল গাইডলাইন, প্রশিক্ষণের জন্য আর্থিক সংস্থান, টেকসই উন্নয়ন, অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন এবং জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়নের পরিকল্পনার বিধান রাখা হয়েছে। এসব বিধিমালার আলোকে পরে কার্যক্রম নেওয়া হবে। আশা করছি, আমরা যে দক্ষতার জায়গায় পিছিয়ে আছি, তা থেকে ধীরে ধীরে উত্তরণ করতে পারব।‘

আরও দুটি পল্লী উন্নয়ন একাডেমি হচ্ছে

দেশে আরও দুটি পল্লী উন্নয়ন একাডেমি হচ্ছে। এর মধ্যে একটি হবে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায়। আরেকটি রংপুরে। জামালপুরের একাডেমির নাম হবে শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, জামালপুর। আর রংপুরেরটির নাম হবে শেখ রাসেল পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, রংপুর। 

মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই দুটি একাডেমি করার জন্য আইনের খসড়া চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন দুটি একাডেমি হলে দেশে মোট চারটি পল্লী উন্নয়ন একাডেমি হবে। বর্তমানে কুমিল্লায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) এবং বগুড়ায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) রয়েছে। এ ছাড়া যশোরের আরেকটি পল্লী উন্নয়ন একাডেমি করার পরিকল্পনা আছে সরকারের।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আইনের খসড়া অনুযায়ী একাডেমি পরিচালনায় একটি বোর্ড থাকবে। ২১ সদস্যবিশিষ্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকবেন পদাধিকারবলে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী। আর একাডেমির মহাপরিচালক হবেন যুগ্ম সচিব বা তার ওপরের পর্যায়ের কেউ। গবেষণা ছাড়াও পল্লী উন্নয়ন বা সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ে ডিপ্লোমাও করা যাবে এখানে। পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন, সার্টিফিকেট কোর্সেরও সুযোগ থাকবে। এ ক্ষেত্রে এসব কোর্সের সনদগুলো বিদ্যমান নিয়মে অর্থাৎ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন দেওয়া হবে।’

করোনা নিয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা শুরু

বিশ্বের কয়েকটি দেশে নতুন করে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় কোভিড পরিস্থিতি ও পদক্ষেপের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে যেসব দেশে করোনার নতুন ধরনের প্রভাব দেখা যাচ্ছে, সেসব দেশের নাগরিকেরা বাংলাদেশের বন্দরগুলো দিয়ে আসলে তাদের পৃথকভাবে পরীক্ষা করে প্রবেশ করানো হচ্ছে বলে জানান তিনি। 

কবির বিন আনোয়ার জানান, ইতোমধ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চারটি বুথে এই পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চারজনকে পাওয়াও গেছে, তাদের আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা