প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৬ ১৫:৩৯ পিএম
ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টালে সোমবার আয়োজিত প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর-রশীদ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর-রশীদ। তিনি বলেন, দেশের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই কৃষির উন্নয়ন ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়।
ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টালে সোমবার আয়োজিত প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের।
কৃষি কার্ড ও তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা
মন্ত্রী বলেন, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে কৃষি কার্ড চালু করা হবে। এতে কৃষকদের সঠিক ও হালনাগাদ তথ্যভান্ডার তৈরি হবে, যা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়ক হবে।
তিনি জানান, মাঠপর্যায় থেকে সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। দেশে ঘাস উৎপাদন বেশি হলেও পশুখাদ্যের দাম বেশি কেন—তা খতিয়ে দেখা হবে।
নিজেকে একজন কৃষক পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, “মাছ ধরা থেকে হালচাষ—সবই পারি। কৃষির উন্নয়ন আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জায়গা।”
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন অধিদপ্তর থেকে সঠিক তথ্য ও সুপারিশ পেলে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হবে।
নারী কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, নারীর হাতে অর্থ এলে তা সঠিকভাবে বিনিয়োগ হয় এবং পরিবার ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
এলডিডিপি প্রকল্পে অগ্রগতি
কর্মশালায় প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মোস্তফা কামাল জানান, লাইভস্টক ও ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প (এলডিডিপি) ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে। বর্তমানে ৬১ জেলার ৪৬৬ উপজেলায় প্রকল্পের কার্যক্রম চলছে। কৃষি জিডিপিতে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান ১৬ শতাংশ।
তিনি জানান, ৬ হাজার ৫০০ প্রডিউসার গ্রুপে প্রায় ২ লাখ ৪২ হাজার খামারি যুক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ৫৫ শতাংশের বেশি নারী। খামারিদের প্রশিক্ষণ, টিকাদান, কৃত্রিম প্রজনন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
দেশজুড়ে ৪৭৫টি মোবাইল ডেইরি ক্লিনিক সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া ৪০৪ উদ্যোক্তাকে ম্যাচিং গ্রান্ট সহায়তা, ১৩৫টি ওয়েট মার্কেট নির্মাণ এবং ১৩টি আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বিশেষ অতিথি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ক্ষুদ্র কৃষকদের ঋণ মওকুফসহ বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ খাতকে আধুনিক ও টেকসই কাঠামোয় রূপান্তরের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করা সম্ভব।