প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৩৭ পিএম
আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৩৯ পিএম
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদা ও গাম্ভীর্যের সঙ্গে পালন করেছে। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদা ও গাম্ভীর্যের সঙ্গে পালন করেছে। নিউইয়র্কে মিশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের পাশাপাশি জাতিসংঘ সচিবালয়–এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ও সম্মেলন ব্যবস্থাপনা–বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেলের দপ্তরের প্রধান অ্যান লাফেবার। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার সংগ্রাম শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গৌরবময় অধ্যায় নয়; এটি বৈশ্বিক পর্যায়ে ভাষাগত বৈচিত্র্য ও সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
‘অনেক ভাষা, এক ভবিষ্যৎ’
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের গ্লোবাল কমিউনিকেশন–বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেলসহ অন্য বক্তারা ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য— ‘ম্যানি ল্যাঙ্গয়েওজজ, ওয়ান ফিউচার: ইয়ুথ ভয়েসেস অন মাল্টিলিঙ্গুয়াল এডুকেশন’—এর তাৎপর্য তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, ভাষাগত বৈচিত্র্য শুধু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক নয়; এটি টেকসই উন্নয়ন, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। আজকের তরুণরাই আগামী দিনের নীতিনির্ধারক, উদ্ভাবক ও নেতৃত্বদানকারী শক্তি। তাই বহুভাষিক শিক্ষার ক্ষেত্রে তাদের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়া একটি ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ নির্মাণের পূর্বশর্ত।
আলোচনায় উঠে আসে, মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা শিশুদের সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে তারা বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। ‘এক ভবিষ্যৎ‘ গড়তে চাইলে ‘অনেক ভাষা’র শক্তিকে স্বীকৃতি দিতে হবে—এমন বার্তাই দেন বক্তারা।
বহুভাষিকতায় অঙ্গীকার ও বাংলার আন্তর্জাতিক মর্যাদা
রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী তার বক্তব্যে জাতিসংঘ ব্যবস্থার মধ্যে বহুভাষিকতা জোরদার এবং বাংলা ভাষার আন্তর্জাতিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বহুভাষিকতা ও টেকসই সামাজিক উন্নয়নের সংযোগ স্থাপনে ইউনেস্কো–র উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তার মতে, ভাষাগত অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন পূর্ণতা পাবে না।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্কে ইউনেস্কো কার্যালয়ের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা ভ্যালেরি পেতি, বহুভাষিকতা–বিষয়ক কর্মকর্তা ইসাবেল বিল্টেরিস এবং ইউনেস্কো কর্মকর্তা মিকায়েল কাই নোমুরা।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ইতিহাস
১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। পরবর্তীতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এর বৈশ্বিক পালনকে স্বীকৃতি দেয়। বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে দিনটি এখন বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর উদযাপিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের আত্মত্যাগের ইতিহাস আজ বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে ভাষাগত অধিকার ও সাংস্কৃতিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। নিউইয়র্কে জাতিসংঘে এই আয়োজন সেই বৈশ্বিক স্বীকৃতির ধারাবাহিকতা বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।