× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ক্রেতাদের প্রত্যাশা: পণ্যবাজার যেন এমনই থাকে রমজানজুড়ে

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:১১ এএম

সরেজমিন গিয়ে শুক্রবার ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সবজির মতো মুদিপণ্যের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

সরেজমিন গিয়ে শুক্রবার ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সবজির মতো মুদিপণ্যের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

আজকে লেবু কিনেছি ৪০ টাকা হালি। আর পেঁয়াজ তিন কেজি ১০০ টাকায়। এছাড়া অন্যান্য সবজির দামও কম। এমন থাকলে আমাদের মতো গরিবরা সহজে খেতে পারবে। সরকারের কাছে চাই, বাজার যেন রমজানজুড়ে এমনই থাকে; বলছিলেন জোয়ার সাহারা বাজারে আসা শুকতারা বেগম।

রমজানের শুরুতে সবজিসহ সকল পণ্যের দাম বেশি থাকলেও রমজানের ১০ দিনের মধ্যে তা কেজিতে প্রায় ২০ থেকে ৪০ টাকা কমেছে।

ঢাকার খিলগাঁও ও আশপাশে ভ্যানগাড়িতে করে শুক্রবার  পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৪০ টাকায়। তিন কেজি একসঙ্গে নিলে পাওয়া গেছে ১০০ টাকায়। রমজানের শুরুতে প্রতি হালি লেবু ১০০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল শুক্রবার বাজারে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজানের শুরুতে বাজারে কেনাকাটায় যে হুড়াহুড়ি চলে তা থেমে যাওয়াতেই দাম পড়তির দিকে। বিক্রেতারাও বলছেন, এখন দাম অনেকটাই কমেছে। তাছাড়া রমজান মাসে মানুষ সবজি কম খায়। ফলে দাম কমেছে। তবে মাছের বাজার আগের চেয়ে চড়া।

সরেজমিন সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, রোজার আগের দিন লেবুর হালি ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ৪০ থেকে ৫০ টাকা। শসা ও বেগুনের দামও কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ এবং বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। এছাড়া আলুর দামও কমেছে। প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায় আর পেঁয়াজ ৪০-৪৫ টাকায়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর দাম কেজিতে ৪ টাকা এবং পেঁয়াজের ২০ টাকা কমেছে। এছাড়া ভালো মানের কাঁচামরিচ খুচরায় বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা কেজি, আর সাধারণ মানের পাড়া-মহল্লার ভ্যানে পাওয়া যাচ্ছে ১০০ টাকায়।

রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা আলামিন বলেন, “রমজান মাসে সবজি তেমন বিক্রি হয় না। সেহেরিতে মানুষ মাছ-মাংস খেতেই পছন্দ করে। এজন্য সবজির দাম কমছে।” একই বাজারে আসা ক্রেতা শাহিন হাসান বলেন, “রমজানের শুরুতে লেবুর দাম শুনেই মনে হয়েছে এ রীতিমতো জুলুম, অন্যায়। রমজানের প্রথম সপ্তাহে লেবু কেনার কথা ভাবতেও পারিনি।” 

মালিবাগে মাছের বাজার ‍ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, তেলাপিয়া ২০০, রুই ৩৫০ থেকে ৪০০, মৃগেল ৩০০ থেকে ৩২০, দেশি টেংরা ৪৫০, বেলে ২৫০, বাইন ৬০০, চিংড়ি ৯০০, পাবদা ৪০০, কই ৩৫০ থেকে ৪০০, শিং ৪০০, পোয়া ২৬০, সোল ৭০০ এবং টাকি মাছ ৪০০ টাকায়। চিংড়ির দাম বেশি, আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজিতে খরচ হচ্ছে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা।

মালিবাগ বাজারের মাছ বিক্রেতা হারুন সরকার বলেন, “চাহিদা বেশি থাকায় দাম একটু বাড়তির দিকে। তবে আমরা খুচরা বিক্রেতারা দাম বাড়াই না; আড়ত থেকে সরবরাহ কম তাই দাম বেশি।” এদিকে খিলক্ষেত বাজারে আসা রহমান মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, “এক কেজি পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। তেলাপিয়া ২৩৫ থেকে ২৫০ টাকা। অথচ আগে এ দুটি অন্যান্য মাছের তুলনায় সস্তা ছিল। এখন রুই, কাতলা বা টেংরা কিনতে কেজিতে ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা লাগে। আমরা নিম্নআয়ের মানুষ এত টাকা দিয়ে মাছ কিনতে পারি না।”

তবে প্রতিটি বাজারেই অপরিবর্তিত রয়েছে গরুর মাংসের দাম। রমজানের আগের কয়েক সপ্তাহ ধরেই গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে দেখা গেছে; যা এখনও বহাল। ব্রয়লার মুরগি বর্তমানে প্রতি কেজি ১৬৫ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। অন্যদিকে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। এছাড়া ফার্মের মুরগির ডিম ডজনপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়। 

তবে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই বলছেন, সবজির মতো মুদিপণ্যের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। ছোলার দাম কমে কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা রোজার শুরুতে ছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকা। খোলা পাম তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। এছাড়া সয়াবিন তেল, চিনি ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১০৫ এবং খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা লিটার।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা