নড়াইল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪৬ এএম
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ
বাংলাদেশের সাত বীরশ্রেষ্ঠের একজন ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ। মহান মুক্তিযুদ্ধে রণাঙ্গনের এই সাহসী সন্তানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার। ১৯৭১ সালে যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮ নম্বর সেক্টরে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। নূর মোহাম্মদ শেখ যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নেতৃত্বে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশকে শত্রুমুক্ত করেন।
১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি
নড়াইল সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের মহিষখোলা (বর্তমান নাম নূর মোহাম্মদ নগর) গ্রামে
জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবার নাম মোহাম্মদ আমানত শেখ এবং মায়ের নাম জেন্নাতুন্নেছা।
বাল্যকালেই বাবা-মাকে হারান এই বীরশ্রেষ্ঠ। তিনি পড়ালেখা করেছেন সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত।
বীরশ্রেষ্ঠ নূর
মোহাম্মদ ১৯৫৯ সালের ১৪ মার্চ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে (ইপিআর) যোগদান করেন,
যা বর্তমানে ‘বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ’ (বিজিবি) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। দীর্ঘদিন দিনাজপুর
সীমান্তে চাকরি করার পরে ১৯৭০ সালের ১০ জুলাই যশোর সেক্টরে বদলি হন। পরে ল্যান্স নায়েক
হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি। ১৯৭১ সালে এ অঞ্চল থেকেই হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন
তিনি।
১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর
যশোরের গোয়ালহাটি ও ছুটিপুরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে গুলিতে
সহযোদ্ধা নান্নু মিয়া গুরুতর আহত হলে নূর মোহাম্মদ হাতে এলএমজি এবং কাঁধে আহত সাথীকে
নিয়ে শত্রুপক্ষের দিকে এগিয়ে যান এবং গুলি ছুড়তে থাকেন। এ সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর
ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। যশোরের শার্শা থানার কাশিপুর
গ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে বীরোচিত ভূমিকা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ
‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত হন নূর মোহাম্মদ।
নূর মোহাম্মদের
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সকালে ‘নূর মোহাম্মদ ট্রাস্ট’ ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নূর
মোহাম্মদ নগরে কুরআনখানি, শোভাযাত্রা, স্মৃতিস্তম্ভে গার্ড অব অনার প্রদান ও পুষ্পস্তবক
অর্পণ, আলোচনা সভা এবং দোয়া-মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।