× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কাল শুরু হচ্ছে বইমেলা

হাসনাত শাহীন

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৪৯ পিএম

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:৩৭ পিএম

চলছে বইমেলার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

চলছে বইমেলার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

লেখক-প্রকাশক-পাঠক আর সাহিত্যপ্রেমীদের দীর্ঘ এক বছরের সকল অপেক্ষার পালা শেষ করে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ১৮ দিনব্যাপী বাঙালির প্রানের মেলা ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’।

বাঙালি জাতিসত্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের প্রতীক ‘বাংলা একাডেমি’র আয়োজনের বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সময়ব্যাপি এই বইমেলার ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে প্রায় সকল প্রস্তুতি। মেলার দুই প্রাঙ্গণ- বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লেগেছে সাজসজ্জার রোশনাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণ থেকে দোয়েল চত্বর-সর্বত্রই এখন যেন উৎসবের আবহ। এমনই উৎসবের আবহে প্রতিবছরের মতো এবারও অমর একুশের ভাষা শহীদদের স্মরণে শুরু হতে যাচ্ছে বাঙালির প্রাণের ‘বইমেলা’। ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিতব্য প্রথমবারের মতো এবারের এ বইমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধন শেষে মেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করবেন তিনি।

এ উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় শুরু হবে উদ্বোধনী আয়োজন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫’ প্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করবেন সংস্কৃতিমন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান এবং বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।

উদ্বোধনের পরেই সর্বসাধারণের জন্য খুলে যাবে মেলার দুই প্রাঙ্গণের প্রবেশপথ। তারপর থেকেই মূলত শুরু হবে আপমর বাঙালির প্রাণের মেলা। যা চলবে মাতৃভাষা রক্ষায় বাঙালির আত্মদানের মাস ‘ফেব্রুয়ারি’র বাকি দিনগুলো শেষে স্বাধীনতার মাস মার্চের ১৫ তারিখ পর্যন্ত। যে সময়ের বাতাসে বইমেলার দুই-প্রাঙ্গণে ভেসে বেড়াবে নতুন বইয়ের ঘ্রাণ। এসব বই নিয়ে প্রতিদিন জমবে লেখক, প্রকাশক, পাঠক আর সাহিত্যপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনা-আড্ডা।

মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি জানিয়েছে, এবারের বইমেলায় অংশ নিচ্ছে মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা সংস্থা ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে রয়েছে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ৮১টি প্রতিষ্ঠানের স্টল এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রকাশনা সংস্থার স্টল। মোট ইউনিট ১ হাজার ১৮টি। গত বছরের মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ছিল ৭০৮টি এবং ইউনিট ছিল ১ হাজার ৮৪টি। মেলায় লিটল ম্যাগাজিন চত্বরের অবস্থান থাকছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছাকাছি গাছতলায়। সেখানে ৮৭টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিশুচত্বরে মোট প্রতিষ্ঠান ৬৩টি এবং ইউনিট ১০৭টি।

ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন দুপুর ২ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। ছুটির দিন বইমেলা শুরু হবে সকাল ১১ টায় এবং চলবে যথারীতি রাত ৯ টা পর্যন্ত। রাত সাড়ে ৮ টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না। এছাড়া শিশু-কিশোরদের অবাধে চলাচল এবং বই কেনার জন্য প্রতি শুক্র ও শনিবার মেলায় সকাল ১১ টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ‘শিশুপ্রহর’ থাকবে। এবং অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে শিশুকিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি এবং সংগীত প্রতিযোগিতা।

মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, প্রতিদিন বিকেল ৩ টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকেল ৪ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত সময়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বরাবরের মতো এবারও বইমেলায় বাংলা একাডেমি এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫% কমিশনে বই বিক্রি করবে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের নির্ধারিত কমিশনে বই বিক্রয় করবে।

এবারের মেলা আয়োজন নিয়ে বাংলা একাডেমির সচিব ও বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. সেলিম রেজা জানান, এবার বইমেলার বিন্যাস গতবারের মতো অক্ষুন্ন রাখা হয়েছে। তবে কিছু আঙ্গিকগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। এছাড়া বিগত বছরের মতো এবারও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আর পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে মেলায় আগত মুসল্লিদের জন্য সুরা তারাবি নামাজের ব্যবস্থা থাকবে। বরাবরের মতো এবারের বইমেলার প্রবেশ ও বাহিরপথে পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। এছাড়াও নিরাপত্তার জন্য মেলায় ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বইমেলা পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে।

তিনি জানান, বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ২০২৫ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগতমান বিচারে সেরা বইয়ের জন্য প্রকাশককে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’ এবং ২০২৫ সালের বইমেলায় প্রকাশিত বইয়ের মধ্য থেকে শৈল্পিক বিচারে সেরা বই প্রকাশের জন্য ৩টি প্রতিষ্ঠানকে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ দেওয়া হবে। এছাড়া ২০২৫ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগত মান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থের জন্য ১টি প্রতিষ্ঠানকে ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’ এবং এ-বছরের মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে। স্টলের নান্দনিক সাজসজ্জায় শ্রেষ্ঠ বিবেচিত প্রতিষ্ঠানকে ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান করা হবে। আর, এবারের বইমেলা থেকে চালু হচ্ছে ‘সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’ শিরোনামে একটি নতুন পুরষ্কার। মেলায় নতুন অংশগ্রহণকারী (যে সকল প্রতিষ্ঠান নতুন প্রকাশক হিসেবে এবারই প্রথম/২০২৪ বা ২০২৫ সালে মেলায় প্রথম অংশগ্রহণ করছে) তাদের মধ্য থেকে ‘গুণগতমান বিচার’-এ সর্বাধিক সংখ্যক বইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ‘সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’ (১ম, ২য়, ৩য়) প্রদান করা হবে।

এদিকে, মেলার শুরুর আগের দিন বুধবার মেলার দুই প্রাঙ্গণ বাংলা একাডেমি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘুরে দেখা গেছে, প্রকাশকরা বিরামহীনভাবে সাজিয়ে তুলছেন নিজেদের স্টল। কোনো কোনো প্রকাশনা সংস্থার স্টলে চলছে শেষ মুহূর্তের নির্মাণের কাজ এবং রঙ করার কাজ। কোনো স্টলে চলছে শিল্পীদের রঙ-তুলির ছোয়ায় একটি বিশেষ বিষয়ের উপর সাজসজ্জাকরণের কাজ।

প্রকাশনা সংস্থা ‘জাগতিক’ এর স্টলে দেখা মিললো তেমনই দৃশ্যের। এ স্টলে চূড়ান্ত সাজসজ্জার কাজ করছেন তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল চিত্রশিল্পী মোরসালিনা অনিকা।

তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “জাগতিক স্টল নির্মান প্রায় শেষ, এখন চলছে সাজসজ্জার কাজ। থিম বা সাজসজ্জার বিষয় হলো ‘মুক্তিযুদ্ধ’। লাল-সবুজ রঙের সঙ্গে আবহমান বাংলার চিরায়ত রূপের সঙ্গে মিশে থাকা বিভিন্ন রঙের মিশেলে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতীকী অবয়ব এবং মুক্তিযুদ্ধের সময়ের যুদ্ধারত অবস্থার আবহে এ স্টলটি সাজানোর হচ্ছে। যাতে সহজেই মানুষ বুঝতে পারে দৃশ্যটি কি বলতে চাচ্ছে। খুব কম সময়ের মধ্যে আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অধ্যায় নিয়ে এ স্টল সজ্জার কাজ করছি। তবু, গত মঙ্গলবার রাতভর কাজ করেছি, আজ সারাদিনও প্রায় বিরামহীনভাবে কাজ করছি। আশা করছি, মেলা শুরুর আগেই কাজ শেষ করতে পারবো”।

এবারের মেলার মূলপ্রাঙ্গণ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশের জন্য মোট ৫টি প্রবেশ পথ এবং বাহির হবার পথ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে টিএসসি প্রান্তে একটা ও দোয়েল চত্বরের দিক থেকে আসতে রাস্তার ডান পার্শ্বে একটা, বাংলা একাডেমির সামনে রমনা কালী মন্দিরের গেট ও তার পার্শ্ববর্তী স্থানে দুটি এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রান্তে একটি প্রবেশ পথ এবং বাহির পথ রয়েছে। আর মেলার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রবেশের জন্য রয়েছে দুটি প্রবেশপথ এবং একটি বাহির হবার পথ।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা