প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:৫৬ পিএম
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ছবি: ভিডিও থেকে
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পাল্টা শুল্ক আরোপ ও বিদ্যমান বাণিজ্যচুক্তি প্রসঙ্গকে ‘বিকাশমান পরিস্থিতি’ হিসেবে উল্লেখ করে এ বিষয়ে আরও পর্যালোচনার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বুধবার সচিবালয়ে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যে চুক্তিটা হয়েছে বিগত সরকার কয়েকদিন আগে করেছে। সেটি ব্যাপারে এখনো আমাদের আপনাদেরকে বলার মত আমাদের কোনো অবস্থান তৈরি হয়নি। আমরা দেখছি এটার পক্ষে বিপক্ষে কি আছে। চুক্তির বিভিন্ন ধারা থাকে। সবগুলি যে পক্ষে থাকে তা না সবগুলি যে বিপক্ষে থাকে তাও না। এটা দেখব তারপরে আমরা একটা আমাদের করণীয় ঠিক করব।
আগের যে চুক্তি ছিল, সেই চুক্তি যদি কেউ বাদ দিতে চায় সেক্ষেত্রে আরও অতিরিক্ত শুল্ক করবে এরকম একটা হুমকিও ইতিমধ্যে তিনি (ট্রাম্প) দিয়েছেন। তাহলে কি আপনাদের যে চুক্তি হয়েছিল এর আগে ৯ তারিখে যেটা হয়েছে এটা কি আপনারা কন্টিনিউ করবেন নাকি এই জায়গাটা আসলে কি ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সাংবাদিকের একমন প্রশ্নে জবাবে মন্ত্রী বলেন, “একটা চুক্তি হওয়ার পরে সেটা বলবৎ হওয়ার জন্য মাঝখানে বেশ কিছু প্রসেস থাকে। আর আমি আবারও বলছি যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই বিষয়টা এখনো ইভলভিং, বিকাশমান। যে জিনিসটা এখনো বিকাশমান সে সময় আমি কোন মন্তব্য করতে চাই না”।
এটার জন্য সময় নিবেন কোনো? এটার দেখার জন্য এই সময়ের মধ্যে আমরা আবার জানাবো কি না এমন প্রশ্নে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “না, এরকম আমি আপনাকে দিন তারিখ বেধে দিব না। আমরা দেখব। আমাদের সামনে তো মাত্র গতকাল আসলামই, আমরা দায়িত্ব নিলা “।
মন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত কিছু পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করেছে। পরবর্তীতে সব দেশের জন্য প্রথমে ১০ শতাংশ এবং পরে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশ সরকার এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত নোটিফিকেশন পায়নি।
তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিষয়টি কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল রয়েছে”।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তদারকিতে থাকা আমদানি পণ্যের দাম মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে। রমজান শুরুর আগে একসঙ্গে বেশি পরিমাণে কেনাকাটার কারণে কিছু সবজির দাম সাময়িকভাবে বেড়েছিল। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ৪০-৫০ টাকার লেবু একসময় ১২০ টাকায় উঠেছিল, তবে পরে তা আবার স্বাভাবিক হয়েছে”।
চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “অতীতে বিভিন্ন সরকার আশ্বাস দিলেও কার্যকর অগ্রগতি হয়নি”।
বর্তমান সরকার এ বিষয়ে বাস্তব পদক্ষেপ নিয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।