প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:১৫ পিএম
আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:১৮ পিএম
আইজিপি আলী হোসেন ফকির। ছবি: ফেসবুক পেজ
দুর্নীতি, দুঃশাসন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের কারণে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের রোষানলে পড়ে একাধিকবার চাকরি হারিয়েছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা আলী হোসেন ফকির। বাহিনীর নিবেদিত এ কর্মকর্তাকে নতুন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। নতুন এ আইজিপি বিসিএস ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে মঙ্গলবার জারি করা প্রজ্ঞাপনে আইজিপি নিয়োগের কথা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন উপসচিব উপসচিব তৌছিফ আহমেদ। এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকায় সম্ভাব্য আইজিপি হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে ছিলেন আলী হোসেন।
আলী হোসেন ফকির বাংলাদেশ পুলিশের ৩২তম আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। প্রতিদিনের বাংলাদেশের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনি পুলিশে ফেরেন। সর্বশেষ অতিরিক্ত আইজিপি ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-এপিবিএনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, আলী হোসেন ফকির ১৯৬৮ সালে বাগেরহাট সদরের সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্ট বিভাগে বিকম এবং এমকম সম্পন্ন করেন। পরবর্তীকালে এমবিএ ডিগ্রিও অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএসের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে সহকারী পুলিশ সুপার তথা এএসপি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন আলী হোসেন ফকির।
পুলিশের এ কর্মকর্তা অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে সদরদপ্তরের ডিআইজি এবং এপিবিএনের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি ডিএমপির উপকমিশনার এবং নেত্রকোনা, ফেনী ও মাগুরা জেলার পুলিশ সুপার তথা এসপি হিসেবে সফলতার পরিচয় দেন। তিনি সিলেট আরআরএফের কমান্ড্যান্ট এবং ৩, ৫ ও ৭ এপিবিএনের অধিনায়ক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও দক্ষতার পরিচয় দেন এ কর্মকর্তা।
পুলিশের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, পেশাগত জীবনে আলী হোসেন ফকিরকে বারবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়। ১৯৯৭ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি প্রথমবার চাকরিচ্যুত হন। পরবর্তীকালে আইনি লড়াই শেষে বিএনপি সরকারের আমলে ফের চাকরিতে ফিরে আসেন, তবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ২০২২ সালে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দীর্ঘ ১৫ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসানের পর তিনি ফের চাকরিতে পুনর্বহাল হন।
আলী হোসেন ফকির দুই সন্তানের জনক। তার ছেলে বুয়েট ও মেয়ে কুয়েটে অধ্যয়নরত। তার স্ত্রী অধ্যাপক নাসিমা ফেরদৌসী তিতুমীর কলেজের ফিন্যান্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী অস্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং পুলিশের হারানো ইমেজ পুনরুদ্ধারে আলী হোসেন ফকিরের মতো অভিজ্ঞ ও যোগ্য কর্মকর্তার নিয়োগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। পুলিশ বাহিনীতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গত ২১ নভেম্বর বাহারুল আলমকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তার স্থলাভিষিক্ত হলেন আলী হোসেন ফকির।