প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৪৮ পিএম
আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৫০ পিএম
মেলা আয়োজনের সর্বশেষ প্রস্তুতি বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার দুপুরে বিস্তারিত জানিয়েছেন মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. সেলিম রেজা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। এদিন দুপুর ২টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রথমবারের মতো বইমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মেলা চলবে ১৫ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত। ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। ছুটির দিনে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কাউকে মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
মেলা আয়োজনের সর্বশেষ প্রস্তুতি বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার দুপুরে এসব তথ্য জানানো হয়। বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. সেলিম রেজা। বক্তব্য দেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। উপস্থিত ছিলেন পরিচালক সরকার আমিন।
অংশগ্রহণ ও বিন্যাস
ড. সেলিম রেজা জানান, এবারের মেলায় মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মোট ইউনিট সংখ্যা ১ হাজার ১৮টি। গত বছর অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ছিল ৭০৮টি এবং ইউনিট ছিল ১ হাজার ৮৪টি।
লিটল ম্যাগাজিন চত্বর থাকবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের নিকটবর্তী গাছতলায়। সেখানে ৮৭টি লিটলম্যাগ স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিশুচত্বরে অংশ নিচ্ছে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান; ইউনিট সংখ্যা ১০৭।
প্রতিবারের মতো এবারও বাংলা একাডেমি এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের নির্ধারিত কমিশনে বই বিক্রয় করবে।
সেমিনার, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও শিশুপ্রহর
মেলায় প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত মূল মঞ্চে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতি শুক্র ও শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত থাকবে ‘শিশুপ্রহর’। অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে শিশুকিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
বিশেষ ব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনা
পবিত্র রমজান উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে মুসল্লিদের জন্য সুরা তারাবি নামাজের ব্যবস্থা থাকবে। খাবারের স্টল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের সীমানা-সংলগ্ন স্থানে বিন্যস্ত করা হয়েছে। এবারের বইমেলার ব্যবস্থাপনা সহযোগী হিসেবে রয়েছে বর্তমান বাংলা লিমিটেড।
মেলায় প্রবেশ ও বাহিরপথে পর্যাপ্ত আর্চওয়ে স্থাপন করা হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। এছাড়া ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বইমেলা পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
পুরস্কার ঘোষণা
মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ২০২৫ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগত মান বিবেচনায় সেরা বইয়ের প্রকাশককে দেওয়া হবে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’। শৈল্পিক বিচারে সেরা বই প্রকাশের জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠান পাবে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’।
এছাড়া শিশুতোষ গ্রন্থে গুণগত মানের জন্য ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’ এবং নান্দনিক স্টলসজ্জায় শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানকে ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান করা হবে।
এবার নতুনভাবে প্রবর্তন করা হয়েছে ‘সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’। নতুন অংশগ্রহণকারী প্রকাশকদের মধ্য থেকে গুণগত মানে সেরা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে (১ম, ২য় ও ৩য়) এ পুরস্কার দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, “এবারের মেলা সকল সম্ভাবনায় আলোকিত হয়ে প্রাণের বইমেলায় পরিণত হবে বলে আমরা আশা করছি। জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে বই ও বইমেলা সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”